শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে বিএনপি’র রাজনীতিতে অদম্য এক নারী কুহেলী দেওয়ান ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-০২ খাগড়াছড়ি মানিকছড়িতে মাহা সংগ্রাই উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা; আরেশে মারমা চ্যাম্পিয়ন অভয়নগরে ভুয়া দর্জি প্রশিক্ষণের জাল, নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ বাণিজ্য সিংড়ায় ইউএনও’র ঝটিকা অভিযানে ২৪ টি ভেকুর ব্যাটারি জব্দ হয়েছে  দেশ ও বিশ্বকে আগামী দিনে বিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে নেয়া প্রতিনিধি এই চত্বর থেকে সৃষ্টি হবে – মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ,এমপি  সাতকানিয়ায় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান ৩ স্কেভেটর বিকল ৩ ট্রাক জব্দ গভীর রাতে আগুনে পুড়ল প্রবাসীর স্বপ্ন: কমলনগরে বসতঘর ছাই, ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে অর্থদন্ড সহ কারাদণ্ড চলাচলের নিরাপত্তা ও সড়কের কাজের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

ঐতিহ্য হারানোর শঙ্কায়ও বসছে বারুহাস মেলা

Reporter Name / ৩৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

 

ফিরোজ আল আমিন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেড়’শ বছরের পুরোনো বারুহাস মেলা আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চলনবিল অধ্যুষিত এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি শুধু একটি মেলা নয়, বরং সম্প্রীতি ও মিলনের এক অনন্য উৎসব।

জানা যায়, জমিদার আমল থেকেই বারুহাস বাজার চত্বরে এই মেলার প্রচলন। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৩ তারিখে তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বারুহাসে এ মেলা বসে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে, যদিও বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই জমে উঠতে শুরু করে মেলা প্রাঙ্গণ।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘বউ মেলা’, যা মূল মেলার পরদিন শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। এদিন আশপাশের গ্রামের গৃহবধূরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা করতে ভিড় জমান। এছাড়া মেলা উপলক্ষে জামাইদের শ্বশুরবাড়িতে আনার দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক রেওয়াজ এখনো প্রচলিত রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭০ থেকে ৯০ দশকে বারুহাস মেলার খ্যাতি ছিল উত্তরবঙ্গজুড়ে। বগুড়া, শেরপুর, নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা মহিষ ও গরুর গাড়ি নিয়ে মেলায় আসতেন। অনেকে মেলা প্রাঙ্গণে তাবু টানিয়ে কয়েকদিন অবস্থান করতেন।

একসময় ২০ থেকে ৩০ গ্রামের মানুষের প্রধান উৎসব ছিল এ মেলা। মাসখানেক আগে থেকেই শুরু হতো প্রস্তুতি—বাড়ি পরিষ্কার, আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত, মুড়ি ভাজা, জামাইদের আপ্যায়নের আয়োজনসহ নানা ব্যস্ততা।

তবে সময়ের পরিক্রমায় মেলার জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। স্থান সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সহজলভ্য আধুনিক বাজারব্যবস্থার কারণে মেলা এখন অনেকটাই সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে গ্রামীণ জীবনের এই ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি একসময় হারিয়ে যেতে পারে। তাই বারুহাস মেলাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর