সিরাজগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে মাত্র ৩০০ টাকার তেল
ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিরাজগঞ্জে তীব্র জ্বালানি তেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। জেলাজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের কাজীপুর মোড় এলাকার মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ মোটরসাইকেল আরোহী তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর রবিউল ইসলাম নামে এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে পাম্পের কাছে গিয়ে শুনি মোটরসাইকেলে মাত্র ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। সরকার বলছে তেল আছে, তাহলে পাম্পে কেন পাওয়া যাচ্ছে না?”
ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক নূরে আলম জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, “স্বাভাবিক সময়ে আমরা প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪ হাজার লিটার তেল পেতাম, এখন পাচ্ছি মাত্র ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার লিটার। অথচ গ্রাহকের চাপ কয়েকগুণ বেশি। সবাইকে তেল দেওয়ার সুবিধার্থেই আমরা ৩০০ টাকার সীমাবদ্ধতা দিয়েছি।”
একই চিত্র দেখা গেছে যমুনা সেতু পশ্চিম নলকা এলাকার আব্দুল আজিজ ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে কর্মরত এক কর্মচারী জানান, আনলিমিটেড তেল দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্টক শেষ হয়ে যাবে, তাই বাধ্য হয়েই সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি আকবর আলী মিয়া জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করছে।
তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় ২৭টি পাম্প থাকলেও তেলের অপ্রতুলতা এবং গ্রাহকদের সামাল দিতে না পেরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক মালিক ইতিমধ্যে পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
তেল সংকটের কারণে সিরাজগঞ্জের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।








