নতুন ঘরে ঈদ করার স্বপ্ন মাটিচাপা পড়ল কবরে: লক্ষ্মীপুরে শিশু সাইয়েদার দাফন আজ
মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
নতুন ঘরে ঈদ আনন্দ করার কথা ছিল পুরো পরিবারের। সেই আনন্দ আজ রূপ নিয়েছে বিষাদে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৭ বছরের শিশু হাফেজা সাইয়েদার নিথর দেহ আজ যখন নিজ গ্রামে পৌঁছাল, তখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের আহাজারিতে। আজ সোমবার বিকেল ৫টায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
শনিবার রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের সেই মর্মান্তিক সংঘর্ষে যে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, সাইয়েদা ছিল তাদের একজন। এই ঘটনায় কেবল সাইয়েদাকেই হারায়নি পরিবারটি; তার বাবা হাফেজ সিরাজ উদদৌলা, মা রাজিয়া সুলতানা এবং বড় বোন আফনান (২২) বর্তমানে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বড় বোন আফনান বর্তমানে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।।
সাইয়েদার বাবা হাফেজ সিরাজ উদদৌলা ফরিদপুরের একটি মসজিদের খতিব। দুই বছর আগে তিনি তার বড় ছেলে রোমানকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে হারিয়েছিলেন। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে চর মনসা গ্রামে নতুন একটি ঘর তুলেছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল এবারের ঈদ সপরিবারে সেই নতুন ঘরে করবেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তছনছ করে দিল সব।
সাইয়েদার চাচি সাহিনুর সুলতানা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “দুই বছর আগে এক ছেলেকে হারিয়েছি, এখন ছোট মেয়েটাও চলে গেল। বড় মেয়েটা আইসিইউতে। নতুন ঘরে আনন্দের বদলে এখন আমরা লাশের অপেক্ষায়। ওর মা-বাবা সুস্থ হয়ে যখন দেখবে সাইয়েদা নেই, তখন তাদের কী সান্ত্বনা দেব?”
শনিবার রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সাথে বাসের এই সংঘর্ষ ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই বাসটি রেললাইনে উঠে পড়েছিল। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই গেটম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।








