ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্যের লড়াই: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইমামসহ প্রাণ গেল ২ জনের
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নির্বাচনী বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
নিহতরা হলেন— গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০) এবং আক্তার মিয়া (৪৫)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য ও বিএনপি সমর্থক জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই ঘটনার পেছনে বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়ার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করেন জিয়াউর রহমান। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তেও এই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ ধরে মঙ্গলবার সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই সময়ে সংঘর্ষের কবলে পড়ে আক্তার মিয়া নামে আরেকজন নিহত হন।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, “পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে।








