সংবাদ প্রকাশের জেরে গভীর ষড়যন্ত্র একটি চক্রের, সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি
রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীতে ‘জীবনতরী সমাজ কল্যান সংস্থা’ নামক একটি সমাজসেবা মুলক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র ও মানহানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মারুফ হোসেন ও ভুক্তভোগীরা। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত ২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কয়েকটি ট্রেড নিয়ে সরকারের একটি প্রকল্প চালু হয়। যেখানে জীবনতরী সমাজ কল্যান সংস্থা বা জীবনতরী টেকনিক্যাল ট্রেনিং একাডেমী সুনামের সাথে কাজ করছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো নারীরা কর্মের জন্য নিজেকে যোগ্য করে গোড়ে তুলতে পারবেন। অর্থাৎ এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটা নারীই উদ্যোক্তা তৈরি হবে। এমন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্রধান অতিথি করা হয়েছিল আরএমপি কাশিয়াডাঙ্গা থানার ততকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল বারিকে। উদ্বোধনের পর সেই প্রতিষ্ঠানের দিকে বদ নজর পড়ে পুলিশসহ একটি কুচক্রি মহলের। এরপর গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট আটকানো ও একাধীক নারীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ তুলে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিখিত অভিযোগ করেন একজন প্রশিক্ষনার্থীর স্বামী। ঐ প্রশিক্ষনার্থীর নাম সোনািয়া জামান। তিনি তার স্বামী আরিফ হোসনকে দিয়ে এই অভিযোগটি করান। স্বামি আরিফ হোসেন একজন ব্যবসায়ী। আরিফ হোসেনের সেই অভিযোগের সূত্রধরে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ। এই ঘটনা প্রকাশ হলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার দুইজন কনেস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত এবং ওসি আজিজুল বারি ও ওসি তদন্ত আজিজ মন্ডলকে বদলি করা হয়। এমন ঘটনায় দেশের অসংখ্য গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। মারুফ হোসেন ও তার প্রতিষ্ঠান নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করেন জেলা সমাজসেবা অফিস। সেখানে তারা সেই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাইনি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর সেই চক্রের একজন সদস্য খুঁজে পান মুরুফ হোসেন। তার নাম সিমা খাতুন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়। এই সিমা খাতুন ইতিমধ্যে পুলিশের পোশাক পরে টিকটকে ভাইরাল। পুলিশ স্বামির পোশাক পরাই সিমার স্বামি সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করে আরএমপি কমিশনার। এরপর থেকে চক্রটি সাংবাদিকসহ জীবনতরী সমাজ কল্যান সংস্থার পরিচালক মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা করার জন্য আদালতে ঘুরছে। চেষ্টা করা হচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে চাপ দেওয়ার।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) দুপুর ১২ টায় একটি অভিজাত চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসকল ঘটনার বর্নণা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মারুফ হোসেন। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারি আরিফ ও টিকটকার সিমা খাতুন তাদের চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এঘটনায় পুলিশের ইন্ধন আছে বলে তিনি দাবি করেন। অবশেষে তিনি সরকার ও আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করেন তারা যেন বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করেন এবং আশাকরছি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। যদি আমার বা আমার প্রতিষ্ঠানের অপরাধ খুঁজে পান তাহলে যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নিব।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এক ভুক্তভোগী নারী জানান, এই আরিফ হোসেন তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাকে সে চিনিনা, সে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য ছড়াচ্ছে যে, এই নারীকে ঘিরে মারুফ হোসেনের নানা ঘটনা আছে। তবে সকল গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেন মারুফ হোসেনের সাথে কোন ধরনের খারাপ সম্পর্ক বা বিরোধ নাই।
এমন অভিযোগের সতত্যা ও অভিযোগকারি তথ্য প্রমান এবং তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে মর্মে জানতে আরিফ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি একজন প্রতিবেদককে জানান, আপনাদের কোন তথ্য দেওয়া হবেনা। আমি সকল তথ্য দিব আদালতে। আপনাদের তথ্য দিলে ভুলভাল সংবাদ প্রকাশ করেন। আমি আদালতে মামলা করেছি, আদালতে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।








