মো. মাসুদ রানা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির রামগড়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রামগড় বাজার পুলিশ বক্সের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিবাড়ি এলাকায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২ আগস্ট বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে রামগড়ের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে ওই গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেয়।
তবে মামলা দায়েরের পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তের আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বসতভিটা থেকে উচ্ছেদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীর বাবা সরোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
মানববন্ধন থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা ভয়ভীতি যেন তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
মানববন্ধন শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ও তার স্বজনদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।