মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ২ নম্বর সাহেবের হাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা, ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ও নানা হিসাব-নিকাশে সরগরম হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের রাজনৈতিক মাঠ। এরই মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে একই পরিবারের দুই সদস্য—সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবুল বাশারের স্ত্রী হোসনেআরা বাশার ও তাঁর ভাতিজা মো. মেজবাউদ্দিন মেজবাকে ঘিরে।
চেয়ারম্যান পদে দুজনই প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান হবে, নাকি শেষ পর্যন্ত তাঁরা দুজনই নির্বাচনী মাঠে থাকবেন—এখন সেটিই হয়ে উঠেছে আলোচনার অন্যতম বিষয়।
ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মেজবাউদ্দিন মেজবা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বলেন, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চাচী হোসনেআরা বাশারের প্রার্থিতার বিষয়ে মেজবাউদ্দিন মেজবা বলেন, একই পরিবারের একাধিক প্রার্থী থাকলেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও দেখার বিষয় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবুল বাশারের স্ত্রী হোসনেআরা বাশারও নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন। একই পরিবার থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে আরও একজন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
এদিকে, চাচী-ভাতিজার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে সাহেবের হাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলছে নানা আলোচনা ও ভোটের হিসাব-নিকাশ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন আড্ডায় কে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকছেন, কার পক্ষে ভোটের সমীকরণ তৈরি হচ্ছে—তা নিয়েই চলছে আলোচনা।
স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, একই পরিবারের দুই প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। আবার পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে যদি সমঝোতা হয়, তাহলে নির্বাচনী হিসাবও বদলে যেতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত চাচী-ভাতিজা দুজনই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, নাকি পারিবারিক সমঝোতায় একজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন—তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত সাহেবের হাট ইউনিয়নের ভোটারদের নজর রয়েছে এই পারিবারিক সমীকরণের দিকেই।