খ.ম. জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর পাশাপাশি চাল, চিনি, তেল, ডাল ও ব্রয়লার মুরগির দামও গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঊর্ধ্বমুখী। হঠাৎ করে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, ক্ষিরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মূলা ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, লেবু ৪০ থেকে ৫০ টাকা হালি, লাউ ৭০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচাকলা ৬০ টাকা হালি, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, জালি কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস এবং পটল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দামেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বাইরে থেকে সবজিবাহী ট্রাক আসতে দেরি হচ্ছে। একই সঙ্গে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন তারা।
এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “বর্ষাকালে অনেক সবজির সরবরাহ কমে যায়। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।”
অন্য এক বিক্রেতার দাবি, “আমরা নিজেরা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করি না। পাইকারি বাজারের দামের ওপরই খুচরা বিক্রির দাম নির্ভর করে।”
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকট ও বৃষ্টির অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় সুযোগসন্ধানীরা এর সুযোগ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা হেলাল মিয়া বলেন, “বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগেই দাম বাড়িয়ে দেন। বর্ষা মৌসুমে চাহিদা বাড়ে—এটাও তারা জানেন। ফলে শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষকে সংসারের খরচ কমাতে হচ্ছে।”
একাধিক ক্রেতা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ব্যবসায়ী পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ভোক্তাদের মতে, বর্ষাকাল এলেই সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা নতুন নয়। তবে বাজারে কার্যকর নজরদারি থাকলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং, মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং পাইকারি-খুচরা দামের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নাসিরনগরের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। সামনে বর্ষার পুরো মৌসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও অস্থিতিশীল না হয়—এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ক্রেতারা।