সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুই নেতার একই স্থানে সভার আয়োজনকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার প্রতাপের চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী সভা হওয়ার কথা ছিল। এ খবর পেয়ে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন একই স্থানে প্যান্ডেল নির্মাণ করে মিলাদ, দোয়া ও ভোজের আয়োজন করেন। এতে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উভয় পক্ষের কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই একই স্থানে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আমি তাদের অন্যত্র সভা করার অনুরোধ করলেও তারা তা মানেনি। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সভা থেকে বিরত থেকেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের সমর্থক ইকবাল হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা বলেন, “আমরা প্রায় ১৫ দিন আগেই এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলাম। এটি ছিল মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। পরে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষের সভাই বন্ধ করা হয়েছে।”
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুম রানা বলেন, তাঁর সমর্থক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সভার আয়োজক ও মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন বলেন, তিনি চেয়ারম্যান পদে মাসুম রানাকে সমর্থন করেন। এ কারণে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হলেও পুলিশের নির্দেশে তা বাতিল করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “একই স্থানে দুই পক্ষের সভার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় উভয় পক্ষের কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, একই স্থানে সভার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।