বুলবুল আহম্মেদ (বুলু), বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের চাপাইনগর গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় গৌরী এক্কা (৮) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ির অদূরে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক পিকআপটি দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
নিহত গৌরী এক্কা চাপাইনগর গ্রামের খোকন এক্কার মেয়ে। সে স্থানীয় গোঁবরচাপা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের আদরের সন্তান গৌরী প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুলে গিয়েছিল। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্কুল থেকে ফিরে গৌরী বাড়ির পাশের পাকা সড়ক পার হয়ে রাস্তার অপর পাশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই জয়পুরহাটের দিক থেকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি অজ্ঞাতনামা পিকআপ তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। আঘাতের তীব্রতায় শিশুটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সব শেষ। এদিকে চালক পিকআপটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গৌরীর মৃত্যুতে চাপাইনগর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সহপাঠীরা তাদের প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়ে। শিক্ষকরা বলেন, হাসিখুশি ও মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের দাবি, শিশু ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
এলাকাবাসী ঘাতক পিকআপ ও এর চালককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘাতক পিকআপ ও চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ এবং একটি বিদ্যালয়ের প্রাণবন্ত শিক্ষার্থীর জীবন মুহূর্তেই থেমে যাওয়ার এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং সড়কে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।