মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১নং মেরুং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মধ্য বোয়ালখালী এলাকায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। এলাকার প্রায় ২০০ পরিবারের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমটি ধসে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দৈনন্দিন চলাচল, শিক্ষা, কৃষিকাজ, চিকিৎসা ও জরুরি সেবাসহ নানা ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেঙে যাওয়া কালভার্টটি মধ্য বোয়ালখালী গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় কবরস্থানে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই কালভার্টের ওপর নির্ভর করেই এলাকার শত শত মানুষ প্রতিদিন চলাচল করতেন। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে কালভার্টটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ ধসে যায়।
কালভার্টটি ভেঙে পড়ার পর থেকে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, ফলে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হোসেন আলী বলেন, “এই কালভার্ট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে। বৃষ্টির পানিতে এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের অনেক কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দা আবদুল রহিম বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, আমাদের গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। কবরস্থানে যেতে, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে এবং দৈনন্দিন কাজে বের হতে এখন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এলাকাবাসী জানান, কালভার্টটি ধসে পড়ায় জরুরি সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনো রোগী অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে জানাজা ও দাফনের জন্য কবরস্থানে পৌঁছানো নিয়েও দেখা দিচ্ছে জটিলতা। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই কালভার্টটির যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত সেই দুর্বল কাঠামোকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। এতে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “মধ্য বোয়ালখালী এলাকার কালভার্ট ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, ভেঙে পড়া কালভার্টটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত নতুন কালভার্ট নির্মাণ না করা হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং শত শত মানুষ কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
মধ্য বোয়ালখালীর মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ও টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করে এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হোক। এতে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েকশ পরিবার এবং স্বাভাবিক হবে জনজীবন।