মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বারাদি সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (৩১ মে) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি প্রাথমিকভাবে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করলেও স্থানীয় সূত্র বলছে, আটককৃতরা মূলত বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা, যারা কয়েক বছর আগে জীবিকার তাগিদে ভারতে গিয়েছিলেন এবং সম্প্রতি দেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে দর্শনা সীমান্তের বারাদি এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় ১০ জনকে আটক করেন। এ সময় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। শিশুদের উপস্থিতি এবং পুরো পরিবারের একসঙ্গে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতদের পরিচয়, জাতীয়তা এবং বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে আমাদের সদস্যরা ১০ জনকে আটক করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হবে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, চোরাচালান এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক নন। তারা সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং কয়েক বছর আগে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের পর সম্প্রতি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সীমান্তের একটি অনির্ধারিত পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তারা বিজিবির হাতে আটক হন।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অনেক মানুষ অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাবে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অভিযানের কারণে অনেকেই বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। ফলে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের আটকের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে।
তবে আটককৃতদের প্রকৃত পরিচয়, তারা কোন দেশের নাগরিক এবং কী কারণে সীমান্ত অতিক্রম করছিলেন—এসব বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিজিবি জানিয়েছে, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ যাতায়াত ও মানবপাচার প্রতিরোধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ যাতায়াত অনেকাংশে কমে আসবে।
বর্তমানে আটক ১০ জনকে বিজিবি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।