নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া সংবাদদাতা
বগুড়া জেলায় কোরবানির পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে শেষ মুহূর্তে কঠোর অবস্থানে গেছে উপজেলা প্রশাসন। একাধিক হাটে অভিযান পরিচালনা করে ইজারাদার প্রতিনিধিদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে সরকার গরুর ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা হারে কর নির্ধারণ করেছে। তবে বিভিন্ন হাটে এই নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠতে থাকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে।
গত মঙ্গলবার (২৬ মে) বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের উমরদিঘী হাট এবং খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের দুবলাগাড়ী হাটে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি।
অভিযানে দেখা যায়, উমরদিঘী হাটে সরকারি নির্ধারিত ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছিল। এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় হাট ইজারাদার প্রতিনিধি মো. জসিম উদ্দিনকে ১ হাজার টাকা এবং দুবলাগাড়ী হাটের প্রতিনিধি মো. সোহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে, গত ২৪ মে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের রানীরহাট এবং খরনা ইউনিয়নের খরনা হাটেও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ ওঠে। সেখানে গরু প্রতি ৬০০ টাকার স্থলে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
একইভাবে, ২৫ মে বগুড়া পৌরসভার সুলতানগঞ্জ হাট এবং আড়িয়া ইউনিয়নের নয় মাইল হাটেও বিপুলসংখ্যক পশু ক্রয়-বিক্রয় হলেও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠে আসে। তবে এসব হাটে তখন প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি বলেন, কোরবানির হাটগুলোতে সরকার নির্ধারিত হারে হাসিল আদায় নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রমাণ মিললেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঈদ পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে, তবে পুরো হাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।