মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নোয়াখালী-কমলনগর ফজুমিয়ার হাট হাসপাতাল সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদামাটি ও পানিতে তলিয়ে গিয়ে যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী থেকে ফজুমিয়ার হাট বাজার পর্যন্ত এই সড়কটি কমলনগর উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষ করে ফজুমিয়ার হাট হাসপাতাল এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে শত শত রোগী নোয়াখালী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত করেন। কিন্তু কর্দমাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে রোগী বহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, কমলনগর উপজেলার বড় হাজির হাট, তোরাবগঞ্জ ও ফজুমিয়ার হাট—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার থেকে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে থাকে। অথচ দীর্ঘদিনেও সড়কটির টেকসই উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, ফজুমিয়ার হাট বাজার সংলগ্ন হাসপাতাল সড়কের অন্তত ৭০০ ফুট অংশ জরুরি ভিত্তিতে সিসি (CC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, সিসি ঢালাই করা হলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং বর্ষা মৌসুমেও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, “বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই যদি সড়কটির কাজ শুরু না হয়, তাহলে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এতে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন।”
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রকৌশলী পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এখন স্থানীয়দের একটাই দাবি—জনদুর্ভোগ কমাতে ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফজুমিয়ার হাট হাসপাতাল সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষায় এই সড়ক দিয়ে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।