বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সিংড়ায় কৃষিজমিতে পুকুর খনন করায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড লংগদুতে মানবিক উদ্যোগে আরো একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করলেন সেনাবাহিনী  বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা  তাড়াইলে ভাংগারি ও পুরাতন বেটারি ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভরশীল চোর চক্র কুষ্টিয়ায় নকল সিগারেট উদ্ধার রংপুরে শালিসি বৈঠকে সাংবাদিকসহ তার পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা সান্তাহারে সিএনজি ও অটোরিক্সা চালক সংঘর্ষে দশজন আহত ইসলামপুরে জুয়া চুরিসহ নানা অপকর্ম রোধে প্রতিবাদ সভা   গোপালগঞ্জ প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন মোঃ শিহাব উদ্দিন গুইমারায় সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

তাড়াইলে ভাংগারি ও পুরাতন বেটারি ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভরশীল চোর চক্র

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

 

মো. রাসেল মিয়া,

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

তাড়াইলে চোরের উপদ্রব দিনদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে ও হাট-বাজারে অহরহ চুরির ঘটনা সংঘটিত হলেও ধরা পড়ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। কখনও ধরা পড়লের কেউ কেউ পিটুনি দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে আবার কখনও কখনও বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটলেও ধরা পড়ছে না চোরেরা। মাঝে মাঝে চোর ধরা পড়লে তাদেরকে জামিনে মুক্ত করছে চোরদের অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত ভাংগারি ও পুরাতন বেটারির দোকানদাররা। তারাই করছে চোরদের লালনপালন।

জানাগেছে, তাড়াইল উপজেলায় প্রায় দিনই ঘটছে চুরির ঘটনা। চোরেরা গভীর রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ হয়ে মানুষের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, লুহা, তামা, সিলভার, পিতলের জিনিসপত্র, টিউবওয়েল এর মাথা, জাল মটর, গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ, কবুতর, গাড়ির ব্যাটারি নিয়ে যায়। ধাতব পদার্থের জিনিস গুলো তারা ভাংগারি ও স্বর্ণের দোকানে গোপনে অল্প মূল্যে বিক্রি করে দেয়। তাড়াইলের ভাংগারি দোকান গুলোতে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সাজা ও অর্থদণ্ডে দন্ডিত করার পরও জেল থেকে ফিরে তারা আবারও এসব ব্যবসা করে যাচ্ছে নির্ধিদায়। ভাংগারি ব্যবসার আড়ালে চোরাই মাল ক্রয় বিক্রয় ও পাচার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাড়াইলের অসাধু ব্যক্তিরা। তাদের পৃষ্টপোষকতায় চোরেরা রাতে এক এলাকায় চুরি করে অন্য এলাকায় মাল বিক্রি করে দেয় এবং এসব জিনিসপত্র যারা ক্রয় করে তারা সাথে সাথে হাম্বল, হাতুড়ি দিয়ে চ্যাপ্টা করে ভোরবেলা অথবা সন্ধ্যা সময় সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নিরাপদ রোডে পাচার করে দেয়।

তাড়াইল সদর সহ পুুরুড়া, তালজাঙ্গা, জাওয়ার, দামিহা, কাউয়াকালি, বানাইল, রাউতি, বৌশের বাজার, আড়াইউড়া, শাহবাগ, আকুবপুর, তেউরিয়া এবং তাড়াইলের পার্শ্ববর্তী এলাকা যেমন মোজাফফরপুর, চিরাং, শিমুলতলা, নীলগঞ্জ, করিমগঞ্জ, গুজাদিয়া, নিয়ামত পুর, চামড়া, পিটুয়া ও কিশোরগঞ্জের ভাংগারি ও পুরাতন বেটারির দোকানগুলোতে বিক্রি করে দেয় বলে জানাগেছে। সংঘবদ্ধ চোরেরাও এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে তারা এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। অগ্রীম অর্থ (দাদন) নিয়ে তারা সমাজে ভালো মানুষের ছদ্মবেশ ধারন করে ঘুরে বেড়ায় এবং পরিকল্পিতভাবে চুরি করে বেড়ায়।

প্রত্যেকটি ভাংগারি ও পুরাতন বেটারির দোকান এখন চোরের আড্ডাখানা। মুহুর্তে চুরি করে মুহুর্তেই হাওয়া হয়ে যায় তারা। এসব দোকানেই রয়েছে প্রত্যেক এলাকার চোরের নামের তালিকা। এলাকাবাসীর সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা জানায়, ভাংগারি ও পুরাতন বেটারির দোকান গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই ছিঁচকে চোর ও সিঁদেল চোরদেরকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। আর পুরাতন বেটারি অর্থাৎ অটোরিকশা থেকে চুরি যাওয়া বেটারি গুলো ক্রয় করে মজুত করছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। তারা বেটারি চোরদের নিয়ন্ত্রণ করে এবং অল্প দামে চুরি যাওয়া বেটারি ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করছে। অত্র অঞ্চলের সবচে বড় চোরের ডিলার তাড়াইল সদরে প্রকাশ্যে ব্যবসা করছে এবং এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেউ কেউ সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোক পরিচয়ে নিয়মিত মাসিক চাঁদা নেওয়ার কথা লোকমুখে শোনা যায়। মূল হুতা অসাধু ভাংগারি ও বেটারি ব্যবসায়ীদের নজরদারি ও সংঘবদ্ধ চোরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর