সেন্টমার্টিনের আকাশে রহস্যময় ড্রোন: দ্বীপে আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিনিধি
সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের আকাশে দেখা মিলেছে ভিনদেশি রহস্যময় ড্রোনের। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ড্রোন দুটির উপস্থিতিতে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ড্রোনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে দ্বীপের আকাশে চক্কর দিয়ে পুনরায় মিয়ানমার সীমান্তের দিকে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেন্টমার্টিন জেটি সংলগ্ন পূর্ব আকাশে হঠাৎ লাল ও সবুজ রঙের আলো জ্বলা দুটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ড্রোন দুটি দ্বীপের ওপর দিয়ে ওড়াউড়ি করে। এসময় উৎসুক মানুষ জেটি এলাকায় ভিড় জমান। জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের দিক থেকেই ড্রোনগুলো উড়ানো হয়েছিল।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাতের আকাশে দুটি ড্রোন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, এগুলো মিয়ানমারের দিক থেকে এসেছে। বর্তমানে মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে যে সংঘাত চলছে, এটি তারই অংশ হিসেবে নজরদারির উদ্দেশ্যে হতে পারে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্বীপবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিরতা বাড়ায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা এমনিতেই উদ্বিগ্ন রয়েছেন। এর মধ্যে ড্রোন অনুপ্রবেশকে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজিম বলেন, “হঠাৎ আকাশে ড্রোন দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কে বা কারা এগুলো উড়িয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এগুলো যে ভিনদেশি ড্রোন, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ নেই।”
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের আকাশে অজ্ঞাত ড্রোনের এমন উপস্থিতি নিয়ে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দ্বীপবাসী।








