কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় কৃষক সাহাবুল ইসলাম মণ্ডলকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবির সরকার এ রায় দেন। নিহত সাহাবুল ইসলাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া চকপাড়া এলাকার মৃত লোকমান মণ্ডলের ছেলে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন পশ্চিমপাড়া গ্রামের মহিন প্রামাণিকের ছেলে আসাদুল প্রামাণিক কালু, একই গ্রামের মোসলেম মোল্লার ছেলে আবু তাহের, আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন ও ওমর আলীর ছেলে মিলন। রায় ঘোষণার সময় আবু তাহের ছাড়া বাকিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাহাবুল ইসলামের সহধর্মিণীর ছোট বোন প্রবাসে থাকায় তার মেয়েকে দেখভালের জন্য সন্তানদের নিয়ে মিরপুর উপজেলার মিটন গ্রামে পরিবারসহ বাস করতেন সাহাবুল। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বাড়ি থেকে বাজার করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাজারে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরের দিন সকালে উপজেলার নওদা আজমপুর মাঠপাড়ার ধৈঞ্চাখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন নিহতের স্ত্রী সুমি খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম জাবীদ হাসান প্রথমে আসাদুল প্রামাণিক কালুকে গ্রেপ্তার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আবু তাহের, হাবিল হোসেন ও মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রাম্য দলাদলির জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সাহাবুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, মূলত গ্রাম্য দলাদলিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আসামিরা সাহাবুল ইসলামকে হত্যা করেন। আদালতে দোষ স্বীকার এবং স্বাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে চার আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকার করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় প্রদানকালে দন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।








