বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রামগড়ের কৃতি সন্তান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, সিআইডি প্রধান হিসেবে যোগদান রাজশাহীর ‎তানোরে সিন্ডিকেটে দু’ সপ্তাহে বস্তার দাম বেড়েছে ডাবলেরও বেশি বিপাকে আলু চাষিরা  ‎ সিরাজগঞ্জে যমুনায় মাছ ধরার সময় জেলের জালে উঠে এল শিশুর মরদেহ মহান স্বাধীনতা দিবসে গোবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আত্মপ্রকাশ দীঘিনালায় তেলের তীব্র সংকট চরমে, পাম্পে “তেল নেই” স্টিকার—স্থবির জনজীবন, ভোগান্তিতে চালক ও পর্যটক কচাকাটায় বিয়ের প্রলোভনে ডেকে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ যমুনার বুক এখন ফসলের মাঠ, বালুচরেই স্বপ্ন বুনছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা রাণীশংকৈলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার বীজ বিতরণ কমলনগরে গণহত্যা দিবস পালিত : আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে লংগদুতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

যমুনার বুক এখন ফসলের মাঠ, বালুচরেই স্বপ্ন বুনছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা

Reporter Name / ২০ Time View
Update : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

ফিরোজ আল আমিন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

​এক সময়ের প্রমত্তা যমুনা এখন যেন ধুধু বালুচর। যে নদীর ঢেউয়ের গর্জনে একসময় জনপদ কাঁপত, সেই নদীর বুকে এখন শোভা পাচ্ছে ইরি-বোরোসহ হরেক রকমের ফসল। নাব্যতা হারিয়ে সিরাজগঞ্জের যমুনার গতিপথ বদলে যাওয়ায় চরাঞ্চলবাসীর অর্থনীতিতে আসছে আমূল পরিবর্তন। জেলেরা পেশা বদলে কৃষিতে ঝুঁকলেও, নদী তার চিরচেনা রূপ ও জীববৈচিত্র্য হারানোয় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

​সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, বেলকুচি, কাজিপুর, চৌহালী ও সদর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন শুধুই চর আর চর। কয়েক যুগ আগের সেই ভয়াবহ ভাঙন এখন অনেকটাই স্তিমিত। যমুনা সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে জেগে ওঠা এসব চরে এখন আর বালু উড়ে না, বরং সেখানে দোল খাচ্ছে বোরো ধান, তিল, কাউন, বাদাম, গম ও মসুরসহ বিভিন্ন রবি শস্য।চরের জমিতে চাষাবাদে খরচ তুলনামূলক অনেক কম।পলি পড়া উর্বর মাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তারা।নদীর তলদেশ জেগে ওঠায় সেখানে বড় বড় গরু-মহিষের খামার গড়ে উঠেছে।নদীর এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৎস্য সম্পদ। যমুনার বিখ্যাত ইলিশ, চিংড়ি, বোয়াল ও পাবদা মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে দীর্ঘদিনের পৈতৃক পেশা ছেড়ে জেলেরা এখন দিনমজুর বা কৃষক হিসেবে কাজ করছেন। যমুনার তলদেশ ভরাট হওয়ায় নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চরবাসীকে যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

​স্থানীয় এক প্রবীণ মাঝির আক্ষেপ, “যেখানে একসময় বড় বড় ফেরি ভিড়ত, সেখানে এখন গরু বাঁধা থাকে। স্রোতের ভয়ে একসময় হাল ধরতে কাঁপতাম, আর এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে পার হতে হয়।”

বিশিষ্টজনদের মতে, যমুনা সেতু নির্মাণের পর থেকেই নদীর প্রবাহে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে মূল চ্যানেলগুলো। কৃষিবিদরা এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক দেখলেও পরিবেশবিদরা নদীর অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত।

​সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান:​”যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন চ্যানেলে ড্রেজিং করে প্রবাহ সচল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। নিয়মিত ও সুপরিকল্পিত ড্রেজিং করা গেলে যমুনাকে আবার তার স্বাভাবিক রূপে ফেরানো সম্ভব।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর