বুড়িরহাট স্কুলে পরীক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ
শরিফা বেগম শিউলী
স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর মহানগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডস্থ বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মন্ডলের দিকে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী বিজ্ঞান শাখার জন্য ২ হাজার ৪৩৫ টাকা এবং মানবিক শাখার জন্য ২ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন সরকার নির্ধারিত হারের তুলনায় অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত অর্থের রশিদে সরকার নির্ধারিত ফি ও আদায়কৃত টাকার মধ্যে স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ি অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে রশিদে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তিনি জানান, সভাপতির পরামর্শে আমরা বেশি করে টাকা নিয়েছি এবং অতিরিক্ত অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়েছে এবং তা নীতিমালার আওতায় নেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় শিক্ষানীতিমালা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা প্রবিধানমালায় সরকার নির্ধারিত এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ ফি’র অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায়ের সুযোগের কথা উল্লেখ নেই। এদিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সায়েমুজ্জামান মিলন একই ব্যক্তি অন্য আরও একটি প্রতিষ্ঠান এইম পিও ভুক্ত আনন্দলোক বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, এ বিষয়ে জানতে সভাপতি+শিক্ষক সায়েমুজ্জামান মিলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাক্ষাৎকার দিতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি রংপুর মহানগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একজন সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তদারকির পরিবর্তে তিনি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অধিক সময় ব্যয় করছেন। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এনায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি এখনো তাঁর নজরে আসেনি। তবে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে তা শিক্ষানীতিমালা পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক অন্য কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্য পদে থাকতে পারেন কি না—সে বিষয়টি শিক্ষা প্রবিধানমালার আলোকে যাচাই করা হবে। নীতিমালাবহির্ভূত প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রবিধানমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে—একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক অন্য কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তো নয়ই, এমনকি সদস্য হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।








