মাধবপুরে এনসিপি নেত্রীর অভিযোগ — বৈষম্যের শিকার দলীয় প্রতিনিধি
মো. ইপাজ খাঁ, বিশেষ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে উপজেলা প্রশাসনের সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী ও উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আসমা আক্তার চৌধুরীকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন—
সরকারি-বেসরকারি সকল কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত মাধবপুর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)! কার হাতে বন্দি উপজেলা প্রশাসন!
এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কেউ প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল বলেও মন্তব্য করেছেন।
বৈষম্যের অভিযোগ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসমা আক্তার চৌধুরী বলেন,জাতীয় নাগরিক পার্টির হবিগঞ্জ জেলা কমিটি থেকে ইউএনওকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে আমাদের কমিটিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়। কিন্তু এরপরও উপজেলা পর্যায়ে কোনো অনুষ্ঠান বা সভায় আমাদের ডাকা হয় না। এটি রাজনৈতিক বৈষম্যের শামিল।তিনি আরও বলেন,আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে নতুন সরকার এনেছি, অথচ আজ নিজেরাই বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। এটা শুধু আমার নয়, পুরো দলের প্রতি অবিচার।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন,এনসিপির প্রতিনিধিরা সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। কাউকে বাদ দেওয়ার কোনো নির্দেশনা বা উদ্দেশ্য প্রশাসনের নেই। যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা অভিযোগ থাকে, তা যাচাই করে সমাধান করা হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের সহযোগী দলগুলোর মধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিয়ে কখনও কখনও যোগাযোগ সংকট বা তথ্যের ঘাটতি দেখা দেয়, যা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়।
এদিকে আসমা আক্তার চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্যে তাঁর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের প্রতি ন্যায্য আচরণের দাবি জানিয়েছেন।








