রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কচাকাটাকে উপজেলা করতে হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে তাড়াশে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও কম্বল বিতরণ  তাড়াশে ধানের শীষে ভোট চাইলেন পৌর বিএনপি বগুড়ায় দোকান চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার ওয়াদুদ ভুইয়ার ধানের শীষের পক্ষে রামগড় প্রবীন বিএনপি উপদেষ্টা কমিটির গণসংযোগ  তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ দেশে পরিনত হবে- মেজর হাফিজ রামগড়ে অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই স’মিল সহ তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে রাষ্ট্রবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর শব্দচয়ন ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ দীঘিনালায় একাধিক মামলার পরোয়াভুক্ত আসামী গ্রেফতার,তিন মাসের কারাদণ্ড ও দুই লক্ষ টাকা জরিমানা

শিক্ষকদের যৌক্তিক আন্দোলনে বলির পাঠা শিক্ষার্থীরা: দায় নেবে কে?

Reporter Name / ১৪০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫

নূর-ই-আলম সিদ্দিক

 

সাম্প্রতিককালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ২০ শতাংশ বাসা ভাড়া,চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা ও উৎসব ভাতা ৭৫% বৃদ্ধির দাবিতে নিজ নিজ কর্মস্থলে কর্মবিরতি চলমান। দাবী বাস্তবায়নে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছেন তারা। তাদের এ দাবী যৌক্তিক। একজন শিক্ষক যখন আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভোগেন তখন তার কাছ থেকে শতভাগ মনোযোগ ও মানসম্পন্ন শিক্ষা আশা করাও কঠিন। তাই বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি,বাসা ভাড়া বৃদ্ধি,চিকিৎসা ব্যয়সহ জীবনযাত্রায় তাদের ব্যয় বৃদ্ধি বাড়ায় তাদের এ দাবী অযৌক্তিক নয়। তবে দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে কর্মবিরতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ বঞ্চিত করায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক কর্মচারীদের আন্দোলনে লাগাতার কর্মবিরতিতে দিনের পর দিন-একের পর এক ক্লাস বন্ধসহ পাঠসূচিতে বিঘ্নিতা ঘটায় পরীক্ষার সিলেবাস ও সময়সূচি নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তায় ভুগছে ছাত্রছাত্রীরা। শুধু তাই নয়- শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠ্যজ্ঞান থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা মানসিকভাবে পড়ালেখা থেকে আগ্রহ হারিয়ে তাদের মূল্যবান সময়টুকু শিক্ষার্জনে শ্রেণীকক্ষে ব্যয় করার সুযোগ না পেয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে ভুল পথে সময় ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছে তারা। তাই তাদের এ যৌক্তিক দাবী নিয়ে প্রশ্ন হচ্ছে- শিক্ষক কর্মচারীদের আন্দোলন ও কর্মবিরতির ফলে ক্লাস বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা তাদের গন্তব্য ভুলে যদি অপরাধকান্ডে জড়িয়ে যায় তাহলে তাদের এ অপূরণীয় ক্ষতির দায় নেবে কে? শিক্ষক কর্মচারীদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি মতে তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ না করায় এর জন্য সরকারকই দায়ী। অপরদিকে সরকার কর্তৃপক্ষ বলবে- সীমিত বাজেট, সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলমান। এ অবস্থায় চলমান আন্দোলন ও সরকার কর্তৃক দাবী পূরণে কালক্ষেপণ এ দু’এর মাঝে বলি হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও শিক্ষাব্যবস্থার নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে- শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড; আর সে শিক্ষার পাঠদানকারী হচ্ছে আমাদের শিক্ষক সমাজ,তাই তাদের ন্যায্য দাবী পূরণে কালক্ষেপণ না করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। আর  শিক্ষকদেরও ভাবা দরকার- তারা শুধু রাষ্ট্রের বেতনভোগী নন,তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মাতা; তাই তাদের উচিৎ হবে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা যাতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে পাঠ্যজ্ঞান অর্জনে নুন্যতম ক্ষতি না হয়। এমতাবস্থায় শিক্ষাঙ্গনে চলমান এ সংকটে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের শিক্ষাব্যবস্থায় নীতিনির্ধারকসহ আন্দোলনকারী উভয় পক্ষের উচিত হবে শিক্ষাঙ্গনের এ সংকট উত্তরণে আলোচনা ও সহানুভূতি ভিত্তিক সমাধান প্রতিষ্ঠা করে আগামীতে একটি ন্যায় ভিত্তিক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। এ সংকট উত্তরণে পথ খুঁজে না পেলে সে সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজ্ঞান অর্জন ব্যহত হলে সরকার ও শিক্ষাব্যবস্থার নীতিনির্ধারকসহ শিক্ষকরা এর দায় এড়াতে পারেনা। তাই এখনই সময়- দ্রুতই উভয় পক্ষের আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এমন সমাধান খুঁজে বের করা, যাতে শিক্ষাব্যবস্থাকে কার্যকর ও শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে শিক্ষার্থীরাও যেন তাদের শ্রেণীকক্ষে কাঙ্খিত পাঠ্যজ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত না হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর