কুষ্টিয়ায় ৫ দফা দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল
রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপির প্রদান করেছেন। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি ও উক্ত আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংগঠনটি এ কর্মসূচি পালন করেন। রোববার(১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে শহরের কাস্টম মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের কাছে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদকে আইনগত ভিত্তি প্রদান না করলে অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দলটির নেতারা উল্লেখ করেন। জামায়াতে ইসলামী ৫ দফা প্রস্তাব হলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও তার ওপর গণভোট আয়োজন। জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ। পূর্ববর্তী সরকারের সময় সংঘটিত গণহত্যা, জুলুম-নির্যাতন ও দুর্নীতির বিচার। স্বৈরাচারী সরকারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়িত হলে জনগণের আস্থা ফিরবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে।
মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, নায়েবে আমীর ও কুষ্টিয়া-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দীন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী হাফেজ মুফতি আমীর হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আবজাল হোসেন, শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হক, সেক্রেটারি শামীম আহমেদ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারি রায়হান আলীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের আত্মত্যাগ ও ন্যায়ের দাবির প্রতিফলন। সেই অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে টিকিয়ে রাখতে হলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে। জনগণের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবর্তনকে কেবল কথায় নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হলে দেশ সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। এজন্য পিআর পদ্ধতি চালু করা এবং সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শেষে জেলা আমীর সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে আমাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, গণতন্ত্র সুসংহত হবে এবং দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।








