প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ করেছেন মো. আশরাফ আলী নামে এক কৃষক। তাঁর অভিযোগ, উপজেলার শরৎনগর বাজারের জাকিয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে কেনা কীটনাশক জমিতে প্রয়োগের পর এর সংস্পর্শে এসে তাঁর হাতের কয়েকটি আঙুলে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।
আশরাফ আলী উপজেলার বেতুয়ান গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের সময় তাঁর হাতে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা কয়েকটি আঙুলে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাঁর আঙুলগুলো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে শরৎনগর বাজারের জাকিয়া এন্টারপ্রাইজে গেলে দোকানের মালিক আব্দুল জব্বারের সঙ্গে আশরাফ আলীর বাদানুবাদ হয় বলে জানা গেছে। এ সময় দোকান মালিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন দোকানে বিভিন্ন ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক দেখতে পান বলে জানান। বিষয়টি ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহানকে জানানো হলে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তবে তাঁর সেখানে পৌঁছানোর আগেই দোকান মালিক ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
দোকান মালিককে ঘটনাস্থলে না পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভুক্তভোগী কৃষককে থানায় নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজমকে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কৃষক আশরাফ আলী বলেন, কীটনাশক ব্যবহারের পর থেকেই তাঁর হাতে সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা করিয়েও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল হয়নি।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, ‘ভুক্তভোগী এখনো থানায় আসেননি। তিনি থানায় এলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’