কমলনগরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় অধ্য শতাধিক ডেন্টাল ক্লিনিক
মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি- কমলনগর (লক্ষীপুর)প্রতিনিধিঃ
মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেই বনে গেছেন দন্ত চিকিৎসক। আবার অনেক বিষয়ে নেই ন্যূনতম পড়াশোনাও। এত কিছুর পরেও দিব্যি চেম্বার খুলে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন এই ভুয়া চিকিৎসক। প্রশাসনের নাকের ডগায়, খোদ লক্ষীপুরের কমলনগর হাজির হাটে হচ্ছে চিকিৎসার নামে প্রতারণা।কমলনগর হাজির হাট উত্তর বাজারে চিকিৎসক নামধারী এই প্রতারক চক্র এবার দন্ত চিকিৎসার বাহারি সাইনবোর্ড ও অস্তিত্বহীন পদবী দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এসব ভুঁইফোড় দন্ত চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনরা। জানা গেছে, কমলনগরের অলিগলিতে ভুয়া দন্ত চিকিৎসকরা চেম্বার খুলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে। সেই সাথে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এসব দন্ত চিকিৎসকের নেই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের কোন ডিগ্রি । নেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সনদও।নেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেম্বার।আছে ভুয়া ডিগ্রি সংবলিত বাহারি সাইনবোর্ড। বাজারের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ডেন্টাল ক্লিনিক খুলে ভুয়া চিকিৎসক সেজে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে বহুদিন ধরে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, শুধু ওষুধের পরামর্শপত্র লিখে দেয়ার জন্য রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর দাঁতের সামান্য কাজের জন্য নেন হাজার হাজার টাকা। এই চিকিৎসকের অনেক কিছু অধিকাংশই ভুয়া। অনেকের ধারণা ভুয়া সনদ নিয়ে দন্ত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডেন্টাল ডিপ্লোমা পাস করে অনেকে নামের আগে সরাসরি চিকিৎসক বা ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা করছেন। অথচ ন্যূনতম ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) বা ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ডিগ্রি ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত বছরের ১২ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।
সংক্ষেপে, এই রায়ের মূল বিষয়গুলি হলো:
শুধুমাত্র যাদের এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি আছে, তারাই নামের আগে “ডাক্তার” বা “চিকিৎসক” পদবি ব্যবহার করতে পারবে।
অন্য কোনো ডিগ্রি বা কোর্স সম্পন্নকারীরা এই পদবি ব্যবহার করতে পারবে না।
যদি কোনো ব্যক্তি এই নিয়ম ভঙ্গ করে, তবে সেটি আইনত দ-নীয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা শাস্ত্রে সনদ ও নিবন্ধনপত্র দিতে পারে না।
সূত্রে জানা যায়,কমলনগরে দিন দিন ভুয়া চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর দাঁতের চিকিৎসার মতো উচ্চমূল্যের খরচ কম খরচে করার আশায় এসব ভুয়া দন্ত চিকিৎসকদের রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এমনকি দাঁতের চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল চিকিৎসায় এ ভুয়া চিকিৎসকরা রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সময় যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন তা জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা না নিয়েই চিকিৎসা করছেন। ফলে রোগীর জীবাণুসংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের রক্তবাহিত বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জীবাণুমুক্তকরণ ছাড়াই অবাধে এক যন্ত্র একাধিক ব্যক্তির মুখে ঢোকানো হচ্ছে। এতে অনেকেরই দাঁত ভাল না হয়ে দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এসব ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সনদপ্রাপ্ত ডাক্তারদের।কমলনগরে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় অধ্য শতাধিক ডেন্টাল ক্লিনিক।কমলনগরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খেটে খাওয়া মানুষকে ধোঁকা দিয়ে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ ডাক্তার সেজে বিভিন্ন নাম সর্বস্ব ভুয়া ডিগ্রি দেখিয়ে সাইন বোর্ড, ব্যানার ও ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে দাঁতের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।এই… হাতুড়ে চিকিৎসক কোনো ডাক্তারের সাথে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন মর্মে এখানে এসে ক্লিনিক খুলে ডাক্তার সেজে কাজ করছেন। অথচ তারা ডেন্টাল সার্জন লিখে চিকিৎসাপত্র দিচ্ছেন। এ সব ভুয়া চিকিৎসক রোগীর দাঁতের স্কেলিং, দাঁতের ফিলিং, দাঁত তোলা, দাঁত বাঁধানোসহ দাঁতের নানা রোগের চিকিৎসার নামে হয়রানি করে টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন।
এই চিকিৎসকের চেম্বারে রোগীও বেশ ভালো। মহিলা রোগীর সংখ্যাই বেশী। নাম-ডাকেরও কমতি নেই। চেম্বারে আসা এক রোগী বলেন চিকিৎসা ভালো কি না বলতে পারি না তবে অন্য এক লোকের মাধ্যমে আমি আসছি। আরেক রোগী জানালেন, তিনি ভুয়া চিকিৎসক কিনা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।ইবনে সিনা পপুলার ডেন্টাল কেয়ার সার্জারী” নামে ক্লিনিক খুলে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। ভুয়া এই দন্ত চিকিৎসকের নাম. মাঈন উদ্দিন। নামের আগে সুকৌশলে ব্যবহার করছেন ডেন্টিস্ট। অথচ তার নেই স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠান বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোন সনদ।
তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলেন ডাক্তার না হয়েও কেনো লিখেন ডাক্তার সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডাক্তার না লিখলে রোগী আসবেনা তাই!
বাংলাদেশের প্রতিবছর লক্ষাধিক জনগণ দাঁতের ভুল চিকিৎসা ও অপ্রচিকিৎসার শিকার হচ্ছে, অনেকে মৃত্যুবরণ করছে! প্রধান কারণ হলো ভুয়া ডেন্টিস্ট বা ভুয়া দাঁতের ডাক্তার। দেশের আনাচে কানাচে গড়ে উঠা এসব ভুয়া ডাক্তারদের চেম্বারে চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই নিজের অজান্তে এইডস, হেপাটাইটিস, ক্যান্সারের মতো মরণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব ভুয়া চিকিৎসকের কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে থাকলেও মাঠে নেই কোনো তদারকি।








