সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তাড়াশে অসহায় পরিবারের পাশে ইউএনও নুসরাত জাহান সিরাজগঞ্জের অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৯ লাখ টাকা জরিমানা নেত্রকোণায় ডিবির অভিযানে ভারতীয় জিরা ও ফুছকা জাতীয় মালামাল জব্দ রাতের অন্ধকারে মাছ উধাও, আলোতে আসতেই সুপারের পাল্টা নাটক, সাংবাদিককে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র  গোপালগঞ্জে এনজিও ঋণ কেলেঙ্কারি: হিসাব গরমিলে আত্মসাত, কর্মকর্তা কারাগারে সিংড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতা নিহত ময়মনসিংহে অশোভন আচরণে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জন করলেন সাংবাদিকরা লোহাগাড়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ভুল রিপোর্ট, উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় ময়মনসিংহে জরুরী হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উদ্বোধন  ময়মনসিংহে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪

গোপালগঞ্জে এনজিও ঋণ কেলেঙ্কারি: হিসাব গরমিলে আত্মসাত, কর্মকর্তা কারাগারে

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাচুড়িয়া এলাকায় ‘প্রশিখা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’ নামের একটি এনজিওর ঋণ কার্যক্রমে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গ্রাহকের জমা দেওয়া অর্থের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল হিসাবের গুরুতর গরমিল পেয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণও মিলেছে।

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফয়জুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আইরিন খানম এনজিওটি থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নেন। চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে তাঁদের পাসবইয়ে উল্লেখিত কিস্তির তথ্যের সঙ্গে অফিসের কম্পিউটার লেজারে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গ্রাহকের জমা দেওয়া অর্থের একটি অংশ অফিসিয়াল হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাত করা হয়েছে। বিশেষ করে ফিল্ড অফিসার অঞ্জলি চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, পুরোনো ও নতুন পাসবই তুলনা করে দেখা গেছে, কয়েকটি কিস্তির তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অফিসের লেজার স্টেটমেন্টেও অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সিআইডি তাদের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার অঞ্জলি চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গোপালগঞ্জ জেলা আদালত সিআর মামলা নম্বর ১০১২/২০২৩-এর তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, অঞ্জলি চৌধুরী এর আগেও বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আত্মসাত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহক জানান, নিরক্ষর গ্রাহকদের সুযোগ নিয়ে কিস্তির টাকা সঠিকভাবে বইয়ে এন্ট্রি না করে দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল।

ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণা কমবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর