শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সিংড়ায় ইউএনও’র ঝটিকা অভিযানে ২৪ টি ভেকুর ব্যাটারি জব্দ হয়েছে  দেশ ও বিশ্বকে আগামী দিনে বিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে নেয়া প্রতিনিধি এই চত্বর থেকে সৃষ্টি হবে – মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ,এমপি  সাতকানিয়ায় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান ৩ স্কেভেটর বিকল ৩ ট্রাক জব্দ গভীর রাতে আগুনে পুড়ল প্রবাসীর স্বপ্ন: কমলনগরে বসতঘর ছাই, ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে অর্থদন্ড সহ কারাদণ্ড চলাচলের নিরাপত্তা ও সড়কের কাজের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কুষ্টিয়ায় শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ২১ জন আটক সিংড়ায় পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু  মেঘনা পাড়ে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য: কমলনগরে কৃষকের ফসল জিম্মি, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট অভিযোগ কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত 

ভাঙ্গায় চার গ্রামের সংঘর্ষ দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত, আহত অর্ধশতাধিক

Reporter Name / ৩৫ Time View
Update : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পুনরায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ বেলা প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলতে থাকে।

সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও গ্রামবাসীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের সঙ্গে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ নতুন করে জোরালো হয়। কেউ বলছেন ফুটবল খেলার মাইকিং, আবার কেউ বলছেন ঈদের আগের রাতে পটকা ফাটানো নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা থেকেই সংঘর্ষের শুরু।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে মনসুরাবাদ বাজারে প্রথম দফায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে মনসুরাবাদ বাজারে কয়েকটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৯ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে ১১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, আগের দিনের সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকালে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ছামছুল আজম জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, স্থানীয়ভাবে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে সংঘর্ষের কারণে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর