প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা,চকরিয়া থেকে গ্রেফতার ১
অনলাইন ডেক্স:
নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে দেশজুড়ে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি, সিটিটিসি এবং কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
রোববার (২২ মার্চ) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে তার কাছ থেকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ভুয়া গেজেট, প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আরিফ মাঈনুদ্দিন অত্যন্ত সুকৌশলে সরকারি লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করেন। সেই প্রজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার তাকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবি করতেন। প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই গেজেট তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে আসছিলেন। এছাড়া তিনি নিজের নামে ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা’ খচিত ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে বিভিন্ন মহলে প্রভাব খাটাতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আরিফ মাঈনুদ্দিন শুধু উপদেষ্টা পরিচয় দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি আরও একটি ভুয়া গেজেট প্রচার করেন। সেখানে নিজেকে ‘গুমের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন’ সংক্রান্ত রাষ্ট্রের বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন। এছাড়া তিনি ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামক একটি অস্তিত্বহীন সংগঠনের সদস্য সচিব পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ভুয়া গেজেটে গুম হওয়া ব্যক্তিদের জন্য এককালীন প্রণোদনা ও স্থায়ী বাসস্থানের প্রলোভন দেখিয়েও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন তিনি।
ডিবির একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই চতুর প্রতারককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তার এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।








