সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু কৃষকের ধান মাড়াই, ধান শুকানো ও খড় সংরক্ষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। ধান ও সরিষার মৌসুম শেষ হলেও মাঠজুড়ে এখনও পড়ে রয়েছে খড়ের পালা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রার্থনা সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি), খেলাধুলা এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ধান ও সরিষা মৌসুমে কয়েকজন কৃষক বিদ্যালয়ের মাঠকে নিজেদের উঠানের মতো ব্যবহার করেন। মাঠে ধান শুকানো, মাড়াই ও খড়ের পালা তৈরি করা হলেও মৌসুম শেষে দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো অপসারণ করা হয় না। এমনকি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়েও মাঠে ধান ও খড় শুকাতে দেখা যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা মাঠ ব্যবহার করতে পারছে না।
শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঠে খড়ের পালা থাকায় ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুটসহ বিভিন্ন খেলাধুলা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি ও শরীরচর্চাও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছারোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ এভাবে দখল করে রাখায় শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠজুড়ে খড়ের পালা থাকায় তারা খেলাধুলা তো দূরের কথা, স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছে না। এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ কোনো ব্যক্তির উঠান নয়। কিন্তু বছরের পর বছর কিছু কৃষক নিজেদের সুবিধামতো মাঠ ব্যবহার করছেন। মৌসুম শেষ হওয়ার পরও খড়ের পালা পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান হোসেন বলেন, “ধান ও সরিষা মৌসুমে কৃষকরা আমাদের স্কুল মাঠকে নিজেদের জমির মতো ব্যবহার করেন। মাঠে ধান ও খড় থাকায় আমরা ঠিকভাবে অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়াতে পারি না। খেলাধুলারও কোনো জায়গা থাকে না। এতে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠ কেবল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত। তারা দ্রুত মাঠ থেকে খড়ের পালা অপসারণ, বিদ্যালয়ের সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।