নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত,সিরাজগঞ্জ সোলার পার্কের বহুমুখী সাফল্য ও সম্ভাবনা
ফিরোজ আল আমিন, নিজস্ব প্রতিনিধ:
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যমুনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ‘সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক’। বর্তমান সরকারের ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, তা অর্জনে এই প্রকল্পটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রই নয়, বরং একই জমিতে কৃষি ও পশুপালনের মতো বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ও কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা এই সোলার পার্কের ইনস্টল ক্যাপাসিটি ৭৫ মেগাওয়াট হলেও, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী এটি জাতীয় গ্রিডে ৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। গত বছর রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও, কেন্দ্রটি ১৮.৫০ শতাংশের একটি ঈর্ষণীয় ‘প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর’ অর্জন করেছে, যা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একটি অসাধারণ সাফল্য। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, অন্যদিকে তেমনি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী।সিরাজগঞ্জ সোলার পার্কটি যমুনার প্লাবনভূমির অব্যবহৃত জমিতে নির্মিত হয়েছে, যেখানে সোলার প্যানেলগুলো সুউচ্চ কাঠামোতে স্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্ভাবনী নকশার ফলে প্যানেলের নিচের বিশাল স্থানটি কৃষি ও পশুপালনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যা জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করছে।
এগ্রো-ভোল্টাইক এর প্রকল্প পরিচালক তানভীর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগে প্যানেলের নিচে পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজ, মিষ্টি কুমড়া, আলু, বেগুন ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ করা হচ্ছে। এই ‘এগ্রো-ভোল্টাইক’ পদ্ধতি একই জমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি কার্যক্রমকে সফলভাবে একীভূত করেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই মডেলটি সফল হলে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও কৃষিজমি নষ্ট না করে বড় বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব হবে। যমুনার চরাঞ্চলে এই উদ্যোগ কেবল পরিবেশ রক্ষায় নয়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখছে।








