শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শূন্য হাতে ফিরল জাতীয় পার্টি: চার দশকের ইতিহাসে চরম বিপর্যয় ত্রয়োদশ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ভরাডুবি,১৫৩ প্রার্থীর ১৫২ জনই জামানত হারালেন লংগদু উপজেলার ২২টি ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লংগদুতে ২২ টি ভোট কেন্দ্রের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি  রামগড়ে র‌্যাব ৭ এর প্রেস ব্রিফিং কুষ্টিয়ায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার  কোনভাবেই যেন এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় : আব্দুল গফুর  কুষ্টিয়ায় ভোটকেন্দ্রের পাশ থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার রায়গঞ্জ-তাড়াশে সহিংসতা রোধে র‍্যাবের কঠোর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি কুষ্টিয়ায় ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি

শূন্য হাতে ফিরল জাতীয় পার্টি: চার দশকের ইতিহাসে চরম বিপর্যয়

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

 

ফিরোজ আল আমিন, নিজস্ব প্রতিবেদক:

১৯৮৬ সালে ক্ষমতা দখলের পর যে দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল দাপটের সাথে, চার দশক পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই জাতীয় পার্টি (জাপা) এখন সম্পূর্ণ ‘আসনশূন্য’। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় এবং একটি ‘তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করছেন।১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (প্রয়াত) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জাতীয় পার্টি গঠন করেন। ওই বছরের নির্বাচনেই ১৫৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে জাপা। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনেও তারা পুনরায় ক্ষমতায় আসে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে এরশাদের পতনের পর অনেকেই জাপার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়ে দলটি ৩৫টি আসন লাভ করে।পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও জাপার অবস্থান ছিল উল্লেখ করার মতো। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে ৩২টি, ২০০১ সালে ১৮টি (বিভিন্ন উপদলসহ), এবং ২০০৮ সালে মহাজোটের অংশ হিসেবে ২৭টি আসন পায় দলটি। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে ৩৪টি আসন পেয়ে তারা সংসদে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৮ সালে ২২টি এবং ২০২৪ সালে ১১টি আসন পেলেও দলটির জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের নির্বাচন ছিল জাপার জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। বিগত সরকারের সাথে ‘আঁতাত’ এবং ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে ভূমিকার কারণে জনমনে দলটির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ছিল। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৯৫ জন প্রার্থী দিলেও কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি তারা। এমনকি দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টির এই পতনের মূল কারণ হলো তাদের ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষ জাপাকে স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের কোন্দলও এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ।নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় জাপার মহাসচিব দাবি করেছেন, নির্বাচনের ফলাফলে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, এই ফলাফল আসলে জাপার গত কয়েক দশকের রাজনীতিরই প্রতিফলন। একটি আসনও না পাওয়া দলটির অস্তিত্বকে এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। জাপার ইতিহাসে এই ‘শূন্য’ আসন প্রাপ্তি এক নতুন ও অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা করল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর