দীঘিনালা উপজেলা: জনসংখ্যা, শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামোর এক বিস্তৃত চিত্র
মোঃ হাচান আল মামুন দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দীঘিনালা। ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষি সম্ভাবনা, শিক্ষা–স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের কারণে এ উপজেলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
উপজেলাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা, দক্ষিণে লংগদু উপজেলা এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি উপজেলা অবস্থিত। জেলা সদর থেকে দীঘিনালার দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। উপজেলার মোট আয়তন ৬৯৪.১১ বর্গকিলোমিটার।
দীঘিনালা উপজেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৫ হাজার ৯২ জন এবং নারী ৫২ হাজার ২৭১ জন। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১৪৯ জন।
এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ হাজার ৮১৭ জন এবং নারী ভোটার ৩২ হাজার ২৭৯ জন। বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩০ শতাংশ।
দীঘিনালা উপজেলা ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে কোনো পৌরসভা নেই। উপজেলায় মোট গ্রাম ২৪৫টি এবং মৌজা রয়েছে ২১টি। এটি খাগড়াছড়ি–২৯৮ জাতীয় সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত।
উপজেলায় রয়েছে ৫৬টি মসজিদ, ১৬টি মন্দির এবং ৬৭টি বৌদ্ধ বিহার ও দুইটি গির্জা । সরকারি কোনো এতিমখানা না থাকলেও বেসরকারি এতিমখানা রয়েছে ৩টি।
নদ-নদীর মধ্যে একমাত্র মাইনী নদী এ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। হাট-বাজার রয়েছে মোট ১০টি।
দীঘিনালায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫৬টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪১টি এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩টি।
এছাড়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ৬টি, সহশিক্ষা উচ্চ বিদ্যালয় ১৫টি ও একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে ২টি। উপজেলায় একটি সহপাঠ কলেজ থাকলেও আলাদা বালিকা কলেজ নেই।
উপজেলার গড় শিক্ষার হার ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের শিক্ষার হার ৫২.৯ শতাংশ এবং নারীর শিক্ষার হার ৩৯.১ শতাংশ।
উপজেলায় ১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৩টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড সংখ্যা ১০টি।
ডাক্তারের অনুমোদিত পদ ১২টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন চিকিৎসক। সিনিয়র নার্স রয়েছেন ১৩ জন এবং সহকারী নার্স ১ জন।
দীঘিনালায় মোট জমির পরিমাণ ২৩,৮৩৪ হেক্টর। এর মধ্যে নীট ফসলী জমি ১৬,৫০০ হেক্টর এবং মোট ফসলী জমি ৩৯,১০৩ হেক্টর।
এখানে এক ফসলী জমি ৩,০১৫ হেক্টর, দুই ফসলী জমি ৪,৩৬৭ হেক্টর এবং তিন ফসলী জমি ৯,১১৮ হেক্টর।
উপজেলায় গভীর নলকূপ ১২৩টি, অগভীর নলকূপ ২,৪২৩টি এবং শক্তিচালিত পাম্প রয়েছে ৪৮৮টি। বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা ৭৮,২৬৭ মেট্রিক টন।
উপজেলায় পাকা রাস্তা রয়েছে ৯১ কিলোমিটার, আধা-পাকা রাস্তা ৩৪ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। ব্রিজ ও কালভার্ট রয়েছে মোট ৬২টি।
দীঘিনালায় ১টি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ২ জন পশু চিকিৎসক কর্মরত। কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে ১টি।
এ উপজেলায় ব্রয়লার মুরগির খামার রয়েছে ৯৬টি, উন্নত জাতের মুরগির খামার ১১টি এবং গবাদিপশুর খামার রয়েছে ২২টি।
মৎস্য খাতে উপজেলার পুকুরের সংখ্যা ১,০০৫টি হলেও সরকারি ও বেসরকারি কোনো মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার নেই।
উপজেলায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি রয়েছে ১টি। কৃষক সমবায় সমিতি ৩৪টি, পুরুষ বিত্তহীন সমবায় সমিতি ৩২টি এবং নারী বিত্তহীন সমবায় সমিতি ২৪টি। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিভিত্তিক সমবায় সমিতি মিলিয়ে মোট ৫৯টির বেশি সমবায় কার্যক্রম চালু রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কৃষি সম্ভাবনা ও সামাজিক বৈচিত্র্যে ভরপুর দীঘিনালা উপজেলা এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বাড়তি নজরের দাবি রাখে। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ উপজেলা পার্বত্য অঞ্চলের একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।








