নবাবগঞ্জে ল্যাম্পি স্কিন রোগে গবাদিপশু আক্রান্ত, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
মোঃ জুলহাজুল কবীর, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে ল্যাম্পি স্কিন রোগ (Lumpy Skin Disease) ছড়িয়ে পড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম—লাউগাড়ী, দাউদপুর, হালুয়াঘাট, কুমারপাড়া ও দিঘীপাড়া এলাকায় এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে এসব এলাকায় গরুর শরীরে গুটি ওঠা, জ্বর, খাওয়ায় অনীহা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত গরুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে, এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
দাউদপুর ইউনিয়নের লাউগাড়ী গ্রামের জামিরুল ইসলাম, কুমারপাড়া গ্রামের দিপু কুমার, দিঘীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ, একই গ্রামের লিটন মিয়া ও লাউগাড়ী গ্রামের জবা বেগম জানান, তাদের প্রত্যেকের একটি করে গরু ইতোমধ্যে মারা গেছে। তারা বলেন, “আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।”
দাউদপুর কলেজপাড়া এলাকার কৃষক ফটিক মিয়া বলেন, “হঠাৎ করে গরুর শরীরে গুটি ওঠে, জ্বর আসে। ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছি, তবে অন্য গরুগুলো নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।”
হালুয়াঘাট গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন জানান, রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই গরু বিক্রি করতে পারছেন না, আবার চিকিৎসার খরচও বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, “ল্যাম্পি স্কিন রোগে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব এবং গরু সুস্থ হয়ে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা রাখতে হবে এবং নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, টিকাদান জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।



