নারীদের অহংকার এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা: রাজপথ পেরিয়ে সংসদের পথে
গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজনীতির ময়দানে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই অবস্থানে পৌঁছানো তার জন্য হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়; বরং রাজপথের লড়াই, প্রতিকূলতার মুখে আপসহীন অবস্থান এবং দলীয় আদর্শের প্রতি অটুট অঙ্গীকারই তাকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার আফ্রাতপাড়া মহল্লায় জন্ম নেওয়া রুমা রাজনৈতিক পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। প্রয়াত বিএনপি নেতা আক্কাস আলী মাস্টারের মেয়ে হিসেবে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে পরিচয় থাকলেও নিজের অবস্থান তৈরি করতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ সন্তান হিসেবে তিনি অল্প বয়স থেকেই সংগঠনের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
শিক্ষাজীবনে সরকারি ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পথচলায় তাকে একাধিকবার পুলিশি বাধা, হামলা, মামলা এমনকি কারাবরণও করতে হয়েছে।
২০১৮ সালে কারাভোগ এবং টানা ৮ দিনের রিমান্ড তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত। এসব প্রতিকূলতা তার ব্যক্তিত্বকে আরও দৃঢ় করেছে। দলের দুর্দিনেও যখন অনেকেই সরে গেছেন, তখনও তিনি রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন—যা তাকে আলাদা করে তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, “সংগ্রামই নেতৃত্বের জন্ম দেয়”—আরিফা সুলতানা রুমার ক্ষেত্রেও তা বাস্তব হয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ এলাকায় নারী জাগরণে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে রুমা বলেন, “ওয়ান-ইলেভেন থেকে আমি মাঠে ছিলাম। দলের দুর্দিনে নানা মেরুকরণ হয়েছে, কিন্তু আমার ঠিকানা ছিল বিএনপি ও জিয়া পরিবার। দলের জন্য কখনও আপস করিনি।” তিনি আরও বলেন, “নারী জাগরণের অগ্রদূত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব আরও বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও বিশেষ করে নারীদের অধিকার ও কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
রাজনীতিতে অনেকেই আসেন আবার হারিয়ে যান। কিন্তু যারা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজেদের গড়ে তোলেন, তাদের গল্প আলাদা হয়ে থাকে। এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমার গল্পও তেমনি—সংগ্রাম, স্থিতিশীলতা এবং ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।



