সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক আদর্শিক নেতা: তাড়াশের রাজনীতিতে মো. সোলাইমান হোসেন সিহাব স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়: যে কক্ষে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার নকশা কুষ্টিয়ায় লালন আঁখড়াবাড়ীতে দোল পুর্ণিমা উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন  কুষ্টিয়ার মিরপুরে সংসদ সদস্যের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময়  কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরে তাড়াশ সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশকে শাস্তিমূলক বদলি কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি কুষ্টিয়ায় জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার 

দিপু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী ইমাম গ্রেপ্তার

Reporter Name / ৪৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

 

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫), যিনি পেশায় ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষক।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি গত প্রায় ১৮ মাস ধরে ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে অন্যান্যদের সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতও নেতৃত্ব দেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদরাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি ‘সুফফা’ নামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগদান করেছিলেন—প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, দিপু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ৯ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ১৮ জনকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় দিপু পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। কারখানার সামনে লোকজন জড়ো হলে তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে দিপুকে কারখানা থেকে বের করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর