ও আব্বা ওআব্বা তুই সাপ ধরবের ক্যা গেলু বাপ!
নূর-ই-আলম সিদ্দিক,নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
“ও আব্বা ও আব্বা তুই সাপ ধরবের ক্যা গেলু বাপ” বিষাক্ত সাপের কামড়ে বাবাকে হারিয়ে এমনি প্রলাপ করছে মৃত সাপুরে বয়েজ উদ্দিনের মেয়ে পারভীন। পারভীনের এমন কাতর প্রলাপে নির্বাক চোখে জল এসেছে নিকটাত্মীয়সহ দেখতে আসা অনেকের। ফলে যেন শোকের ছায়া নেয়ে এসেছে পুরো মহল্লায়।
সাপ ধরতে গিয়ে সাপের ছোবলে প্রাণ হারানো সাপুরে বয়েজ উদ্দিন উপজেলার কচাকাটা থানার বল্লভের ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ডাক্তার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানায়- বুধবার (৩০ জুলাই) উপজেলার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কালীগঞ্জের কাপালীপাড়ায় ইমরান আলীর বাড়ির পাকের ঘরে গর্তে থাকা একটি বিষাক্ত সাপ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। পরে সাপটি ধরতে স্থানীয় সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিনকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে সাপুড়ে ওই বাড়িতে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষধর সাপটি ধরে কিছুক্ষণ পর সুকৌশলে সাপটিকে বস্তায় ভরানোর সময় পরপর দু’বার ডান হাতে ছোবল মারে সাপটি। এসমম তিনি বিষক্রিয়ায় মাটিতে ঢলে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয়রা দ্রুত চিকিৎসার জন্য অটোযোগে স্থানীয় গাবতলা বাজারে নিয়ে আসেন। এ অবস্থায় বিষক্রিয়ায় সাপুরে বয়েজ উদ্দিনের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে মাইক্রো যোগে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া পথেই তার মৃত্যু হয়।
বয়েজ উদ্দিনের ভাগ্নে সিরাজুল ইসলাম জানায়- বয়েজ উদ্দিন আমার মামা হন। তিনি পেশায় সেলো মেকানিক তবে তিনি দীর্ঘদিন থেকে সাপ ধরেন। আজ সকালে কমেদপুর কাপালি পাড়া থেকে লোক এসে সাপ ধরার জন্য ডেকে নিয়ে যান। সেখানকার ইমরান আলীর বাড়ির পাকের ঘর থেকে একটি সাপ ধরেন। বস্তায় ঢোকানোর সময় সাপ ছোবল মারে। পরে খবর পেয়ে আমরা তাকে হাসপাতালে নেই।
ইমরান আলী জানান, বাড়ির পাকের ঘরে অনেকদিন থেকে সাপের উপদ্রপ ছিলো। আজকে বয়েজ উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে যাই। পাকের ঘরের একটি ইদুরের গর্ত থেকে সাপের তিনটি বাচ্চাসহ সাপটিকে ধরেন তিনি। পরে বস্তায় ঢুকানোর সময় সাপটি উল্টে তার হাতে ছোবল মারে। অনেক ক্ষন পর বিষক্রিয়া শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।
ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এসএম আবু সায়েম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিৎ করে বলেন, তাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত হয়েছে।








