হৃদয় রায়হান
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক তিনটি বিশেষ অভিযানে এক কোটি আট লাখ টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় মাদক, মদ ও অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে ১৮ পিস ইয়াবাসহ একজন যুবককে আটক করা হয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়কের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সর্বপ্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় গত ২৩ মে বিকেল ৫টার দিকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রংমহল বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এলাকার রংমহল মাঠে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে বিজিবির একটি চৌকস টহল দল ১৮ পিস ইয়াবাসহ মো. আলো হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে।
আটক মো. আলো হোসেন গাংনী থানার লক্ষ্মীধোলা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুরের কাথুলি বিওপি এলাকার দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩৪ এমপির প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাথুলি মাঠে আরেকটি অভিযান চালায় বিজিবি।
এ সময় চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও সেখানে ফেলে যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে ছিল ১ হাজার পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ টাকা। বিজিবি জানায়, এসব ওষুধ অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এরপর আরও একটি বড় অভিযান পরিচালিত হয় রবিবার (২৪ মে) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে কুষ্টিয়া জেলার কাজিপুর বিওপি এলাকায়। কাজিপুর ব্রিজ মোড় নামক স্থানে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবির টহল দল বিপুল পরিমাণ মাদক ও ওষুধ উদ্ধার করে।
এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়—
৫০ বোতল ভারতীয় মদ,১০,০০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট,২৫,০০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, এই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পৃথক অভিযানে উদ্ধারকৃত ইয়াবা, মদ ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় ট্যাবলেটসহ মোট পণ্যের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা।
বিজিবি আরও জানায়, উদ্ধারকৃত এসব মাদক ও অবৈধ ওষুধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে আটক মো. আলো হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিজিবির মূল দায়িত্ব। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির এই ধারাবাহিক অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিপুল পরিমাণ মাদক ও অবৈধ ওষুধ উদ্ধার হলেও সংশ্লিষ্ট মহলগুলোকে শনাক্ত ও সম্পূর্ণ চক্র ধ্বংসে আরও জোরালো অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন