কমলনগরে ওটিএম দরপত্রে লটারি বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি আব্দুল কাদের মোজাহিদ বিরুদ্ধে
মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রের কাজ লটারি মাধ্যমে বণ্টনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি ও উপজেলা রাজস্ব উন্নয়ন খাতের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজের বিপরীতে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি নং ০৬/২০২৫-২৬ অনুযায়ী ওটিএম পদ্ধতিতে ৭টি প্যাকেজে দরপত্র ডাকা হয়।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, ওটিএম পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়নের ভিত্তিতে কাজ বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে তা না মেনে গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লটারির মাধ্যমে প্যাকেজগুলো বণ্টন করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় নীতিমালা (PPR)-এর পরিপন্থী। তারা আরও অভিযোগ করেন, যেসব ঠিকাদার ওটিএম পদ্ধতির সিডিউল ফরম ক্রয় করেননি, তাদেরও এই লটারি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত অংশগ্রহণকারী ঠিকাদাররা বঞ্চিত হয়েছেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দরপত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে তা দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করে এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মন্তব্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকির অভিযোগও উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র বণ্টনে লটারি ব্যবহার কতটা বৈধ—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।








