মেট্রোরেলের পিলারে পোস্টারে সয়লাব: নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা নেই, উদাসীন কর্তৃপক্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর যানজটমুক্ত স্বস্তির বাহন মেট্রোরেল এখন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং নগরীর আধুনিকতার প্রতীক। তবে এই আধুনিক স্থাপত্যের সৌন্দর্য এখন ঢাকা পড়ে যাচ্ছে পোস্টারের ভিড়ে। মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশন ও পিলার এলাকা ‘পোস্টার বা ব্যানার লাগানো নিষেধ’—এমন সংবলিত তথ্য বোর্ড থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। পিলারের পর পিলার এখন পোস্টারে সয়লাব, যা রাজধানীর সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিচ্ছে।
পিলারের গায়ে বিজ্ঞাপনের পাহাড়
সরেজমিনে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, মেট্রোরেলের পিলার, লিফটের দেয়াল (শ্যাফট), সিঁড়ির পাশের স্টিলের বেড়া এবং বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের দেয়ালে পোস্টারের স্তূপ জমেছে। রাজনৈতিক প্রচারপত্র থেকে শুরু করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বাসা ভাড়া, কোচিং সেন্টার, পাত্র-পাত্রী চাই এমনকি সিনেমার পোস্টার—বাদ যায়নি কিছুই। অনেক জায়গায় পোস্টারের পরত এতটাই পুরু যে পিলারের আসল রং চেনার উপায় নেই।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার আঁকা বর্ণিল গ্রাফিতিগুলোও এখন পোস্টারের নিচে চাপা পড়ে গেছে। নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী নাঈম হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর নিয়ন্ত্রণ যেন পুরোপুরি শিথিল হয়ে গেছে। দিন দিন দৃশ্যটা আরও নোংরা হচ্ছে।”
গলার কাঁটা ভাসমান দোকান
কেবল পোস্টারই নয়, স্টেশনগুলোর প্রবেশপথ ও সিঁড়ি ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ ভাসমান দোকান। চটপটি, ফুচকা ও চায়ের দোকানের কারণে যাত্রীদের চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি উচ্ছিষ্ট খাবারের ময়লায় স্টেশনের বাইরের পরিবেশ হচ্ছে শ্রীহীন। যাত্রী মাঈশা হকের মতে, “দোকান আর কাস্টমারদের ভিড়ে সিঁড়িতে পা রাখাই দায় হয়ে পড়েছে।”
দায় এড়ানোর খেলায় কর্তৃপক্ষ
মেট্রোরেলের ভেতরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকলেও বাইরের এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপের প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) প্রশাসন বিভাগ ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি নিজেদের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলে এড়িয়ে যান।
ডিএমটিসিএল-এর পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলম বিষয়টি অপারেশন সাইটের ওপর ছেড়ে দিলেও, পরিচালক (অপারেশন) মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেন, “এগুলো অ্যাডমিন ডিপার্টমেন্টের কাজ। লিজ, ভাড়া বা ম্যাজিস্ট্রেট সংক্রান্ত সব বিষয় তারাই দেখাশোনা করে।” কর্মকর্তাদের এমন রশি টানাটানিতে মেট্রোরেলের বাইরের সৌন্দর্য এখন অভিভাবকহীন।
কী বলছে আইন?
’দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে পোস্টার লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন লঙ্ঘন করলে অর্থদণ্ডসহ বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও মেট্রোরেল এলাকায় এর কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ পোস্টার অপসারণ করে দৃষ্টিনন্দন পিলারগুলোর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হোক এবং যারা আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।








