সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুষ্টিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাট দীঘিনালায় তেল সংকট চরমে, পাম্পে ‘তেল নেই’ স্টিকার—দুর্ভোগে চালক ও পর্যটক ফেসবুকে রিলস-পোস্ট শেয়ারে মাসে আয় ৩০০০ ডলার! মেটার নতুন প্রোগ্রাম ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ ঘোষণা অপরাধ দমনে আগামীকাল থেকে হটলাইন চালু করার নির্দেশ- সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ ৩ ডাকাত আটক নতুন ঘরে ঈদ করার স্বপ্ন মাটিচাপা পড়ল কবরে: লক্ষ্মীপুরে শিশু সাইয়েদার দাফন আজ লংগদুতে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত  মেট্রোরেলের পিলারে পোস্টারে সয়লাব: নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা নেই, উদাসীন কর্তৃপক্ষ শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৩০০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ; ৬ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: গুলিতে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০

পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: গুলিতে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০

Reporter Name / ৮ Time View
Update : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

 

​নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা:

​পাবনার সুজানগরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে চায়না খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

​সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত চায়না খাতুন ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।

​রোববার (২২ মার্চ) দিবাগত রাতে ভিটবিলা বাজারে দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হলে রাজা গ্রুপের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চায়না খাতুন।

​ইসলাম প্রামাণিক (ভুক্তভোগী পক্ষ): তিনি অভিযোগ করেন, “আমার ভাগ্নে ফরহাদকে রাতে মারধর করে রাজার লোকজন। সকালে আমরা সমঝোতার জন্য বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই রাজার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের গুলিতেই নিরপরাধ এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।”

​রাফিউল ইসলাম রাজা (অভিযুক্ত পক্ষ): অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলাম না, এক আত্মীয়ের বিয়েতে এসেছি। ষড়যন্ত্র করে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। আমি শুনেছি ওই নারী স্ট্রোক করে মারা গেছেন, গুলিতে নয়।”

​সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খঈম উদ্দিন গুলিতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানান:

​”ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঠিক কী কারণে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।”

​বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গুরুতর আহত ১০ জনকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর