মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের পুরস্কার প্রদান এবং স্থানীয়দের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দোকানঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তার পাশাপাশি চলাচলে সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া এলাকার নিরাপত্তা ও রাতের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন স্থানে সোলার ল্যাম্প পোস্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা না গেলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
তিনি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আস্থা আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সল, লক্ষ্মীছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁনসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।