সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক আদর্শিক নেতা: তাড়াশের রাজনীতিতে মো. সোলাইমান হোসেন সিহাব স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়: যে কক্ষে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার নকশা কুষ্টিয়ায় লালন আঁখড়াবাড়ীতে দোল পুর্ণিমা উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন  কুষ্টিয়ার মিরপুরে সংসদ সদস্যের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময়  কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরে তাড়াশ সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশকে শাস্তিমূলক বদলি কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি কুষ্টিয়ায় জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার 

কুষ্টিয়ায় ২১৩ ইটভাটার ১৯৬টি অবৈধ

Reporter Name / ১১৬ Time View
Update : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

হৃদয় রায়হান :

কুষ্টিয়ায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ইটভাটা। যে সকল ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়,কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। যা স্থানীয় জনজীবন ও কৃষির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,জেলার ছয় উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা ২১৩টি। এর মধ্যে বৈধ ছাড়পত্র নিয়ে চলানো হচ্ছে মাত্র ১৭টি। অন্য ১৯৬টি চলছে পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্সবিহীন। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বৈধ ইটভাটর মধ্যে ভেড়ামারা উপজেলায় ৩টি,দৌলতপুরে ১টি,কুমারখালী উপজেলায় ৯টি এবং খোকসা উপজেলায় ৪টি ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে ২টি অটো ব্রিকস এবং বাকী ১৫টি জিগ-জ্যাগ। তবে কুষ্টিয়া সদর এবং মিরপুর উপজেলায় নেই কোন বৈধ ইটভাটা। অবৈধ ১৯৬টি ইটভাটার মধ্যে ১টি অটো, ৪২টি জিগ-জ্যাগ, ২৯টি ড্রাম চিমনি এবং ১২৪টি উচ্চতার পাকা ফিক্সড্ চিমনি। এদিকে অবৈধ ১৯৬টি ইটভাটার মধ্যে ২১টি ইটভাটার মালিক হাইকোর্টে রিট করার কারণে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর ওই সকল ইটভাটার বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না বলে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়দের দাবি,সরকারি আইনে কৃষি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও কমপক্ষে প্রতিটি ইটভাটার জন্য তিন-চার একর কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন করেছে প্রভাবশালীরা। আইনের ফাঁক-ফোকর ডিঙিয়ে জেলায় গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। প্রতি বছরের মতো এবারও চলতি মৌসুমের শুরুতেই কৃষিজমি ও নদীর পলি মাটি কেটে ইটভাটাগুলোতে প্রস্তুত করা হচ্ছে নতুন ইট। এতে জেলায় কৃষিজমি হ্রাস ও উদ্বেগজনকভাবে কমছে খাদ্যশস্য উৎপাদন। জানা গেছে,ভাটার লাইসেন্স পেতে প্রস্তাবিত আবেদন পত্রের সঙ্গে ইট তৈরিতে মাটির উৎস উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে হফলনামা দাখিলের বাধ্যতামূলক শর্ত থাকলেও ভাটা মালিকদের অধিকাংশই তা মানছে না। ফলে বেআইনিভাবে কৃষিজমি ও নদী তীরের পলি মাটি কেটে প্রস্তুত করা হচ্ছে ইট। কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন,ইটভাটার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষিজমি। এছাড়া দেদারছে কাঠ পুড়িয়ে উজাড় করা হচ্ছে ফলদ-বনজ সম্পদ। ইটভাটার নির্গত ধোঁয়া-ছাই ফসলের ক্ষতি, পরিবেশ দূষণসহ জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করছে চরমভাবে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন বৈধ ভাটামালিক বলেন,ইটভাটা মালিক সমিতির শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব, অর্থবিত্ত ও তদবিরে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা অবৈধ ভাটা উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। এছাড়া কতিপয় ভাটা মালিক উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়ে সৃষ্টি করেছে আইনি প্রতিবন্ধকতা। প্রতি বছর কিছু সংখ্যক ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে অদৃশ্য কারণে তা আর এগোয়না বেশি দূর। পরিবেশ বিষয়ক গবেষক গৌতম কুমার রায় বলেন, দেশের ১০ হাজার ইটভাটার মধ্যে ৪ হাজার অবৈধ। প্রত্যেক ভাটায় কমবেশি ৯৫ শতাংশ কাঠ পুড়ানো হয়। তাতে আমাদের দেশে বছরে ইটভাটায় ২৫০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঠ পুড়ানো হয়। মাটির উপরিভাগে(টপ সোয়েল) বৃষ্টি,বন্যার পানি,গাছপালা পঁচার কারণে উর্বর শক্তি থাকে। সেই সাথে পরিবেশ বান্ধব অনুজীব থাকে। মাটি পুড়ানোর কারণে টপ সোয়েল টোটালি ধ্বংস করে ফেলছে। ফলে উর্বর শক্তি হারাচ্ছে। এছাড়া মাটি কাটার ফলে ওই জমি কুষি কাজ কিংবা জলাশয় কোন কাজেই আসছে না। পাশাপাশি নির্মল বায়ু দূষিত হচ্ছে। ধোঁয়ার সাথে ক্ষার ছড়াচ্ছে। মানুষের নিঃশ^াসের ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করছে। গাছের বেঁচে থাকার শক্তি নষ্ট হচ্ছে। সুতরাং ইট ভাটায় ব্লক ইট তৈরি এখন সময়ের দাবি। সিমেন্ট,বালু দিয়ে তৈরি এই ইট পরিবেশ বান্ধব। কুষ্টিয়া ইটভাটা মালিক সমিতি একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলী বলেন,আমাদের নিয়ন্ত্রণে ৭৩ ইটভাটা রয়েছে। ৮ থেকে ৯টা বাদে সবাই কয়লা ব্যবহার করেন। পরিবেশের ছাড়পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন,বাংলাদেশের কারো পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। যদি তাই হয় তাহলে সবাই অবৈধ। আমরা নিয়মিত সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমল থেকেই বন্ধ রয়েছে। জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. ইমদাদুল হক বলেন,অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোতেও অভিযান চালানো হবে। তবে এ বিষয়ে দায়সারা বক্তব্যে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,পর্যায়ক্রমে সকল ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর