রামগতি-কমলনগরে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা
মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় উপজেলা রামগতি ও কমলনগরে এবার আমের বাম্পার ফলনের জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের যত্নে গাছভর্তি কাঁচা আমে ভরে উঠেছে গ্রামাঞ্চলের আঙিনা ও বাগান, যা কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের আমগাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা আম। অনেক গাছেই আম ‘কড়ালি’ অবস্থায় পৌঁছে গেছে। সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলন্ত আমের মনোরম দৃশ্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।
কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা এলাকার আমচাষী কামাল হোসেন বলেন, “এবার বাগানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আম ধরেছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো লাভের আশা করছি।”
রামগতি উপজেলার চর গাজী ইউনিয়নের শনিরোড এলাকার কৃষক মিঠু দাস জানান, ধানের পাশাপাশি আম এখন এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্তমান আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রায় প্রতিটি গাছেই যেভাবে আম এসেছে, তাতে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
এদিকে গ্রামীণ জনপদে কাঁচা আমকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারে শুরু হয়েছে আমের আচার তৈরির ধুম। গরমে কাঁচা আমের শরবত, ভর্তা ও নানা মুখরোচক খাবারও হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। স্থানীয়রা জানান, আম পাকার মৌসুমে দুধ-ভাতের সঙ্গে পাকা আম খাওয়ার ঐতিহ্য ঘিরে তাদের আলাদা আগ্রহ রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হতে পারে। এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইকতারুল ইসলাম বলেন, “আম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে সার, ওষুধ ও কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।”
সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে রামগতি-কমলনগরে এবার আমের মৌসুম ঘিরে তৈরি হয়েছে আশাবাদের এক উজ্জ্বল চিত্র।


