সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন

শাহজাদপুরের পিআইও আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির মামলায় কারাগারে

প্রতিবেদকের নাম / ৩৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

 

ফিরোজ আল আমিন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে তাকে পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর।

এর আগে, রোববার (৩ মে) রাতে দুদকের একটি দল পাবনার সুজানগর থানার হাসামপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর রাতে তাকে পাবনা সদর থানা হেফাজতে রাখা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ মে তার, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। তারা একই বছরের ৩ জুলাই সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন।

তদন্তে অসংগতিপূর্ণ তথ্য পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়া তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে স্বামীর অবৈধ আয়ের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়।

অন্যদিকে, ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ আয়ের ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়াও তদন্তে আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়। পরে তিনি ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দাখিল করেন।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি। এ প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের পক্ষ থেকে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান এবং আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।

দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
04 May 2026

শাহজাদপুরের পিআইও আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির মামলায় কারাগারে

www.dainikkagoj.com
04 May 2026

শাহজাদপুরের পিআইও আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির মামলায় কারাগারে

www.dainikkagoj.com