নিজস্ব প্রকিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের ৭০ শতাংশের বেশি এলএনজি আমদানির উৎস কাতার হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬৫–২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ৯০ কোটি ঘনফুট, যা ইতিমধ্যে কমে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসন্ন গ্রীষ্মে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ১০ ডলার থেকে বেড়ে ২৫ ডলারে পৌঁছেছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভর্তুকির চাপ সামলাতে হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, পেট্রোবাংলা বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সাশ্রয়, বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত লোডশেডিংয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।