মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
এক মাস সিয়াম সাধনার পর দুয়ারে কড়া নাড়ছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উৎসবকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বাজারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। ঈদের আনন্দকে মিষ্টিমুখে রাঙিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় মিষ্টির কারিগর ও হোটেল ব্যবসায়ীরা।

ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে মিষ্টি মুখ করা সুন্নাত—এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে রামগতি ও কমলনগরের প্রতিটি বাজারে এখন মিষ্টিজাতীয় পণ্য তৈরির ধুম পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কমলনগরের হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ, ফজুমিয়ার হাট, লরেন্স বাজার, মতিরহাট, মুন্সিরহাট ও করুণানগরসহ বিভিন্ন বাজারের হোটেলগুলোতে চলছে মিষ্টি মজুদের মহোৎসব।একই চিত্র দেখা গেছে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজার, রামগতি বাজার, বিবিরহাট, রামদয়াল, হাজিগঞ্জ, বাদেরহাট, চৌধুরী বাজার ও জনতা বাজারে। কারিগররা দিন-রাত এক করে তৈরি করছেন ঐতিহ্যবাহী জিলাপি, বুরিন্দা, গাজা, আংগুলি এবং হরেক রকমের ছানার মিষ্টি।পবিত্র রমজান মাসে দিনের বেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক মন্দা ছিল। তবে ঈদকে ঘিরে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা।ফজুমিয়ার হাট রাজধানী হোটেলের ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, "এক মাস দোকান বন্ধ ছিল। এখন পুরোদমে মাল তৈরি করছি, ইনশাআল্লাহ ঈদে ভালো বিক্রি হবে।"ব্যবসায়ী মো. খোকন জানান, "ঈদের দিন এবং পরবর্তী কয়েকদিন ভালো বেচাকেনার আশা করছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।"মিষ্টি ব্যবসায়ী মো. শাহাদাৎ হোসেন ছায়েম বলেন, "দীর্ঘ এক মাস পর দোকান খুলছি। গ্রাহকদের চাহিদা মাথায় রেখে বিভিন্ন পদের মিষ্টি তৈরি করেছি।"শুধুমাত্র মিষ্টির দোকানই নয়, সেমাই, চিনি আর দুধের বাজারেও এখন উপচে পড়া ভিড়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদ মানেই আনন্দ ভাগাভাগি করা, আর সেই আনন্দের পূর্ণতা পায় মিষ্টিমুখের মাধ্যমে।সব মিলিয়ে মেঘনা উপকূলীয় এই দুই উপজেলার ছোট-বড় সব বাজারে এখন কেবলই ঈদের প্রতীক্ষা। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এই ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি।