জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন আমিনুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার ৩নং গুনারীতলা ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুল ইসলাম ওই এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসা করালেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। অসুস্থতার কারণে তিনি বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরেই থাকতেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছিলেন না।
সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ির আশপাশে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির রান্নাঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের ছোট ভাই মমিন বলেন, “আমার ভাই অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। নিজের পরিশ্রমেই চলতেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে মাথার সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা করিয়েও কোনো উন্নতি হয়নি। আজ হঠাৎ করেই তিনি এমন ঘটনা ঘটালেন।”
নিহতের স্ত্রী মালেকা বেগম জানান, “মাথার সমস্যার কারণে তিনি সারাক্ষণ ঘরের ভেতরেই থাকতেন। সকালে তাকে না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে রান্নাঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না বলেন, “আমিনুল খুব শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। এলাকায় কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। মানসিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, এসআই আশরাফুল আলমসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ ঘটনায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”