নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা-কে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের আদালত। নির্ধারিত একাধিক তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক এ আদেশ দেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার এ আদেশ প্রদান করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-কে “নাস্তিক” ও “ইসলামবিদ্বেষী” বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল।
মামলা দায়েরের পর আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে একই দিন মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং তাকে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তীতে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ হিসেবে আজ রোববার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও মুফতি আমির হামজা আদালতে উপস্থিত হননি। এ অবস্থায় আদালত তাকে হাজির হওয়ার জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের ফলে এখন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণ বা আদালতে হাজির হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বলেন, “আদালত ইতোমধ্যে সমন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।”
আইন সংশ্লিষ্টরা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো আসামি সমন কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানার পরও আদালতে উপস্থিত না হলে আদালত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাকে আত্মগোপনকারী হিসেবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও হাজির না হলে আদালত আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য ও আলোচিত ধর্মীয় বক্তার বিরুদ্ধে আদালতের এ ধরনের নির্দেশনা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আদালতের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কৌতূহল বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট মহলে।