মোঃ আখতার হোসেন হিরন :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া-সলঙ্গা অঞ্চলে সরিষা ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। উপজেলার উধুনিয়া,বড়পাঙ্গাসী,বাঙালা,হাটিকুমরুল,সলঙ্গা,রামকৃষ্ণপুরসহ বিস্তীর্ণ সরিষার মাঠে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর চারপাশ। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছি,আর সেই মধু সংগ্রহে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন মধু খামারিরা।
সরিষা মাঠের পাশে সারি সারি কাঠের বাক্সে রাখা হয়েছে মৌচাক। সেই বাক্স থেকে সকাল-বিকাল খামারিরা মধু সংগ্রহ করছেন। তাদের ভাষায়, সরিষা ফুলের মধু স্বাদে ও মানে ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি থাকে।
সলঙ্গার বওলাতলা গ্রামে অবস্থিত উল্লাপাড়া ইসলামিয়া মৌ খামারের প্রতিষ্ঠাতা মৌচাষী আশিক আহমেদ বলেন,চলতি বছর মধুর যে চাহিদা আছে তাতে চাষীরা এবছর খরচ বাদে আগাম লাভের আশংকা করছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি কৃষি অধিদপ্তরের সাথে কৃষকদের সমন্বয়ে যেনো মধু নীতিমালা তৈরি হয়। দেশের পরাগায়ন সেক্টরটা ডেভেলপ হলে দেশের কৃষি ফলন বৃদ্ধি পাবে। দেশ এগিয়ে যাবে মধু উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
সলঙ্গা ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমান জানান,আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে সরিষা ফুলের মধুর ভালো ফলনের আশা করি। প্রতি মৌচাক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাজার ছাড়াও মৌ খামারিরা দেশের বিভিন্ন জেলায় মধু পাঠাতে পারবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্না ইয়াসমিন সুমি বলেন, সরিষা ফুল ও মৌচাষ একে অপরের পরিপূরক। এতে একদিকে যেমন মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলনও ভালো পাওয়া যাবে। ফলে কৃষক ও মৌচাষী উভয়ই লাভবান হবে।
তিনি আরোও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর অধিক মধু পাওয়া যাবে। আশা করছি এ বছরে দুইশত টনের উপর মধু উৎপাদন করতে পারবে কৃষক। যা রেগুলার প্রাইজে বিক্রি করলে প্রায় ৬ কোটি টাকার মত বিক্রি করতে পারবে। যা কৃষকদের মাঝে অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।