মোখলেছুর রহমান ধনু,
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও একটি বিক্রেতা চক্রের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হক বাজারের উত্তর পাশে চর বসু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী সদর আন্ডারচর গ্রামের প্রবাসী নুর নবীর স্ত্রী মালেকা বেগম (৩৫) স্থানীয় নজিরের ছেলে বেল্লাল গংদের কাছ থেকে ৭৭ শতক জমি ক্রয় করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিক্রেতা বেল্লাল নিজস্ব জমি বুঝিয়ে না দিয়ে স্থানীয় হারুন ও রশিদ গংদের ভোগদখলীয় জমি মালেকা বেগমকে দখল পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলতে থাকে।

পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে ভুয়া নামজারির অভিযোগ উঠলে প্রকৃত মালিক পক্ষ আদালতে আপিল করেন। আদালত তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে বিতর্কিত নামজারি বাতিল করে দেন।
এরপরও জমি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় মালেকা বেগম লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা (মিস মামলা নং- ৪৫৩/২০২৫) দায়ের করেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া আক্তার লাকী উভয় পক্ষের শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, উভয় পক্ষ নিজ নিজ মালিকানার জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে থাকবেন এবং কেউ কারও দখলে বাধা দিতে পারবেন না। একই সঙ্গে পূর্বের স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করে মামলাটি নথিজাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে এই জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল খালেক (পিতা: হারিচ আহমেদ)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রথমে বেল্লাল গংদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন এবং পরে প্রকৃত মালিক পক্ষ থেকেও একই জমি কেনেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে তিনি জমিতে দখল নিতে পারছেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমিতে কাজ শুরু করতে গেলে প্রবাসীর স্ত্রী মালেকা বেগম পুলিশ দিয়ে তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী হারুনুর রশিদ (৪৫) বলেন, তিনি ২০০৯ সালে এই জমি ক্রয় করেন এবং নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে এখানে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিক্রেতা বেল্লাল বলেন, তিনি ২০১৮ সালে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে পরবর্তীতে মালেকা বেগমের কাছে বিক্রি করেছেন এবং অন্যান্য দাবিগুলো ভিত্তিহীন।
কমলনগর থানার এএসআই মো. হাসান জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।