মোঃমাসুদ রানা,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়িতে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের দ্বারা ধানের চারা রোপণ এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে খাগড়াছড়ি ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি সদরস্থ কমলছড়ি ব্লকের পাইলটপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে স্থান ভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষকের তিন একর জমিতে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপন করা হয়।
চারা রোপন অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর ওবায়দুর রহমান এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় খাগড়াছড়ির প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনাব মো: সিরাজুল ইসলাম।
এসময় তিনি বলেন, "এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে বোরো মওসুমে প্লাস্টিক ট্রেতে ধানের চারা উৎপাদন ও রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে তিন একর জমিতে কম বয়সী চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ধান চাষাবাদ প্রক্রিয়া সময়, শ্রম এবং অর্থ সাশ্রয়ী। সর্বোপরি এই পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদে কৃষকের ধান উৎপাদন খরচ বহুলাংশে হ্রাস পায় এবং ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ি অত্র জেলায় আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ধান চাষাবাদ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
এসময় কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত কৃষক বাবলু চাকমা বলেন, "আমার জমিতে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর কার্যক্রম দেখে এই গ্রামের অন্যান্য কৃষকেরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছে এবং এই পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জনাব ওংকার বিশ্বাস, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো.জহুরুল আলম।
এতে সভাপতিত্ত্ব করেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: রাব্বী হাসান।
জমিতে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় সহযোগিতা করেছে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
উল্লেখ্য ইতিপূর্বে উক্ত তিন একর জমির জন্য কৃষক পর্যায়ে ২৪০ টি প্লাস্টিক ট্রে, ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক জাতের বীজ ধান, সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, আগাছানাশক ও সাইনবোর্ড বিতরণ করা হয়েছে।
পাইলটপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ৩ একর জমিতে কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায়োগিক পরীক্ষণ কার্যক্রম ছাড়াও ৪০ একর জমিতে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন (প্রদর্শনী) এবং পাঁচটি গবেষণা কার্যক্রম স্থাপন করা হয়েছে।